Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: খাবার পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে ক্যাব চালানো কিংবা বাড়িতে বিভিন্ন পরিষেবা দেওয়া দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ এখন গিগ অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু এই কর্মীদের বড় অংশেরই নির্দিষ্ট বেতন, প্রভিডেন্ট ফান্ড বা অবসরকালীন পেনশনের মতো প্রচলিত সুবিধা নেই। এবার সেই ঘাটতি পূরণে বড় পদক্ষেপ। গিগ কর্মীদের অবসর-পরবর্তী আর্থিক নিরাপত্তা বাড়াতে জাতীয় পেনশন সিস্টেম বা NPS-এর আওতায় বিশেষ পেনশন ব্যবস্থা চালু করেছে পেনশন ফান্ড রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (PFRDA)।
মাত্র ৯৯ টাকা থেকেই শুরু সঞ্চয়
এই প্রকল্পের অন্যতম আকর্ষণ হল, মাত্র ৯৯ টাকা দিয়েই পেনশন সঞ্চয়ের পথ শুরু করা যাবে। গিগ কর্মীদের আয় যেহেতু অনেক সময় নির্দিষ্ট থাকে না, তাই তাঁদের কথা মাথায় রেখেই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নমনীয়তা রাখা হয়েছে। অর্থাৎ আয় বা সামর্থ্য অনুযায়ী পরবর্তীতে সঞ্চয়ের পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব।
PFRDA-র নিয়ম অনুযায়ী, টাকা জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সর্বনিম্ন বা সর্বোচ্চ সীমা রাখা হয়নি। ফলে কম টাকা দিয়ে শুরু করে ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিনিয়োগ বাড়াতে পারবেন কর্মীরা।
কারা পাবেন এই সুবিধা?
জোম্যাটো, সুইগি, ব্লিঙ্কিট, জেপটো এবং ইনস্টামার্টের মতো ডেলিভারি ও কুইক-কমার্স প্ল্যাটফর্মের যোগ্য কর্মীরা এই ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারেন। পাশাপাশি ওলা, উবার, র্যাপিডোর মতো রাইড-হেইলিং পরিষেবার চালক এবং আরবান কোম্পানির মতো হোম-সার্ভিস প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরাও এই সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পাবেন। অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের যোগ্য গিগ কর্মীরাও প্রকল্পটির আওতায় আসতে পারেন।
কীভাবে খুলবেন NPS অ্যাকাউন্ট?
এই সুবিধা পেতে ‘Gig Workers Pension Scheme’ ক্যাটাগরিতে NPS অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। অ্যাকাউন্ট তৈরির সময় নাম, ঠিকানা, PAN, মোবাইল নম্বর এবং ব্যাঙ্কের প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। আধারের মাধ্যমে KYC যাচাই সম্পন্ন হওয়ার পর কর্মীর সম্মতিতে তৈরি হবে Permanent Retirement Account Number বা PRAN।
অ্যাকাউন্ট খোলার পর ৬০ দিনের মধ্যে বাবা-মায়ের তথ্য এবং নমিনির বিবরণ যুক্ত করার সুযোগও রয়েছে।
প্ল্যাটফর্ম বদলালেও থাকবে সঞ্চয়
গিগ কর্মীদের কাজের ধরন অনেকটাই পরিবর্তনশীল। ফলে একজন কর্মী এক সংস্থা ছেড়ে অন্য প্ল্যাটফর্মে যোগ দিলেও তাঁর NPS অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে না। নতুন প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে পুরনো অ্যাকাউন্ট লিঙ্ক করে আগের সঞ্চয় চালিয়ে যাওয়া যাবে।
৬০ বছর পর কীভাবে মিলবে টাকা?
৬০ বছর বয়সে পৌঁছনোর পর সঞ্চয়ের একটি অংশ এককালীন হিসাবে নেওয়ার সুযোগ থাকবে। বাকি অর্থ দিয়ে অ্যানুইটি কেনা যাবে। সেই অ্যানুইটির ভিত্তিতেই পরবর্তীতে নিয়মিত পেনশন পাওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। তবে মাসিক পেনশনের নির্দিষ্ট অঙ্ক আগে থেকে বলা যায় না। মোট কত টাকা সঞ্চয় হয়েছে এবং অ্যানুইটির জন্য কত অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে, তার উপর পেনশনের পরিমাণ নির্ভর করবে।
গিগ কর্মীদের যাঁদের প্রচলিত চাকরির মতো অবসরকালীন সুবিধা নেই, তাঁদের জন্য তাই এই NPS ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে ভবিষ্যতের আর্থিক সুরক্ষা গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হতে পারে।


