Aaj India Desk, কাঠমান্ডু : কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের বহুল উদ্ধৃত পঙ্ক্তি ‘তুমি মানুষ হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াও’। ভয়াবহ বন্যায় বিধ্বস্ত নেপালের পরিস্থিতিতে যেন সেই কথাকে বাস্তবে প্রয়োগ করে দেখালেন বলিউড অভিনেতা সোনু সুদ (Sonu Sood)। ত্রাণসামগ্রী নিয়ে কাঠমান্ডু পৌঁছনোর পর দুর্গত এলাকা ত্রিশূলী বাজারে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আগামী মাসগুলিতেও সাহায্য চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন অভিনেতা।
বিপর্যস্ত নেপালের পাশে সোনু
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ১,১২৭। এখনও নিখোঁজ বহু মানুষ। কোথাও নদীতে ভেসে আসছে মৃতদেহ, কোথাও স্বজন হারানোর কান্না। ভয়াবহ এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার ‘সুদ চ্যারিটিফাউন্ডেশনের’ সদস্যদের নিয়ে কাঠমান্ডু পৌঁছন সোনু সুদ (Sonu Sood)।
এর আগে সোশ্যাল মিডিয়াতেই নেপালের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিলেন অভিনেতা। জানিয়েছিলেন, খাবার ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রীর পাশাপাশি পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও সাহায্য করার চেষ্টা করবেন। এবার সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব রূপ দেখা গেল তাঁর নেপাল সফরে।
ত্রাণের সাথে পুনর্বাসনের আশ্বাস
ভারত থেকে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছেন কম্বল, খাবার, প্রয়োজনীয় ওষুধ-সহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী। তবে শুধু সামগ্রী পৌঁছে দিয়েই দায়িত্ব শেষ করতে চান না সোনু (Sonu Sood)। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তাঁরা এই মুহূর্তে কী ধরনের সাহায্য চাইছেন, তা বোঝার চেষ্টা করছে তাঁর দল।কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে সোনু বলেন, “আমরা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। ভারত থেকে ত্রাণসামগ্রী এনেছি। দরকার পড়লে তাদের পুনর্বাসনেরও ব্যবস্থা করা হবে।”
কাঠমান্ডু পৌঁছে ত্রিশূলী বাজারে যান অভিনেতা। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এই এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তাঁদের অভিজ্ঞতা শোনেন এবং নিজের চোখে দেখেন বিপর্যয়ের পরিস্থিতি। সোনুর উপলব্ধি, এই ক্ষত কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসে সারবে না। তাই ত্রাণ ও সহায়তার কাজও দীর্ঘমেয়াদি করতে হবে। সোনু জানিয়েছেন, নেপালের মানুষের ঘুরে দাঁড়াতে সময় লাগবে। তাই শুধু এখন নয়, আগামী মাসগুলিতেও প্রয়োজন অনুযায়ী সাহায্য পাঠিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে তাঁর দল।
উল্লেখ্য, নেপাল পুলিশের বুধবারের হিসাব অনুযায়ী, বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১,১২৭। ভারতের মাটিতেও ৯টি দেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে নেপাল পুলিশ। উদ্ধার হওয়া দেহগুলির মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র ৯৫টি শনাক্ত করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ফলে নিখোঁজ স্বজনদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হচ্ছে। অন্যদিকে বন্যার জল সরে গেলেও বিপদ কাটেনি। নদীর জল পান না করা এবং নদীর তীর থেকে কোনও খাবার সংগ্রহ করে না খাওয়ার জন্য প্রশাসনের তরফে সতর্ক করা হয়েছে। মৃতদেহ ও আবর্জনা ভেসে যাওয়ায় জল ও খাদ্যদূষণের আশঙ্কাও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নেপালের প্রয়োজন চিকিৎসা, নিরাপদ পানীয় জল, খাবার এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন। আর সেখানেই শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সেই পঙ্ক্তি নতুন অর্থ পায়। মানুষের বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই শেষ কথা। সোনু সুদের নেপাল সফর সেই মানবিকতারই একটি জলজ্যান্ত উদাহরণ।


