Aaj lndia Desk,নয়াদিল্লি: গবাদি পশুর শরীরে সংক্রমণ ছড়ানো শামোন্ডা ভাইরাস (Shamonda Virus) এবার মানুষের দেহেও শনাক্ত হয়েছে বলে খবর। বিশ্বে এই প্রথম কোনও মানুষের শরীরে এই বিরল ভাইরাসের সংক্রমণের ঘটনা সামনে এসেছে। ফ্রান্সে (France) এক আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুর পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে ওই ব্যক্তির মৃত্যুর জন্য ভাইরাসটিই দায়ী কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে ফরাসি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
কীভাবে মানুষের শরীরে ছড়াল ভাইরাস?
প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, পূর্ব ফ্রান্সে বসন্ত ও গ্রীষ্মের মরশুমে গবাদি পশুর মধ্যে শামোন্ডা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়েছিল। সেখান থেকেই ওই ব্যক্তি সংক্রামিত হয়ে থাকতে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা। তবে পশুর শরীর থেকে ঠিক কীভাবে তাঁর দেহে ভাইরাসটি প্রবেশ করেছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তি আগে থেকেই গুরুতর শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। ফলে তাঁর ক্ষেত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অক্টোবরের গোড়ায় তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পরই ভাইরাসটির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নতুন করে নজরদারি শুরু হয়েছে।
কী এই শামোন্ডা ভাইরাস?
শামোন্ডা ভাইরাস (Shamonda Virus) অর্থোবুনিয়া ভাইরাস (Orthobunyavirus) গোষ্ঠীর অন্তর্গত। মূলত সংক্রমিত এক ধরনের ক্ষুদ্র রক্তচোষা মাছি, কিউলিকয়েডিস (Culicoides)-এর কামড়ের মাধ্যমে পশুর শরীরে এই ভাইরাস ছড়ায়। গরু এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। এ ছাড়া ভেড়া, ছাগল ও ঘোড়ার শরীরেও সংক্রমণের নজির মিলেছে। ১৯৬০-এর দশকে নাইজেরিয়ায় (Nigeria) প্রথম এই ভাইরাসের সন্ধান পাওয়া যায়।
ইউরোপের একাধিক দেশে সংক্রমণ
২০২৬ সালের গ্রীষ্মে ইউরোপের গবাদি পশুর শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়। জার্মানি (Germany), সুইজারল্যান্ড (Switzerland) ও ফ্রান্সে সংক্রমণের খবর সামনে আসার পর ইউরোপের আরও একাধিক দেশে এর উপস্থিতি ধরা পড়ে। বেলজিয়াম (Belgium), আয়ারল্যান্ড (Ireland), ইতালি (Italy), নেদারল্যান্ডস (Netherlands), পর্তুগাল (Portugal) ও স্পেন (Spain)-সহ মোট ১৩টি ইউরোপীয় দেশে গবাদি পশুর শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সাধারণ মানুষের জন্য কতটা বিপদ?
ফরাসি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সাধারণ মানুষের জন্য বড় কোনও স্বাস্থ্যঝুঁকি চিহ্নিত হয়নি। তবে মানবদেহে প্রথম সংক্রমণের ঘটনা সামনে আসায় সতর্ক রয়েছে ইউরোপীয় রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (ECDC)। কীভাবে সংক্রমণ ঘটল এবং ভাইরাসটি মৃত্যুর কারণ হয়েছিল কি না, তা জানতে তদন্ত চলছে। বর্তমানে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে অনুমোদিত কোনও টিকা নেই বলে জানা গিয়েছে।


