Aaj India Desk, বাঁকুড়া : পুজোর ভিড়ে ঠাকুর দেখতে বেড়িয়েছেন অনেকেই, কিন্তু সেই ভিড়ের ফাঁকেই কারও কারও নজর নাকি ছিল অন্যের গয়নায়! পুজো শেষ হতেই মণ্ডপে মণ্ডপে হাতসাফাইয়ের একাধিক অভিযোগ দায়ের হতেই নড়েচড়ে বসেন পুলিশ। শেষমেশ পুলিশের হানায় গ্রেপ্তার করা হয় আন্তঃরাজ্য চক্রের ১৩ জনকে (Pickpocketing Gang)। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে দুটি সোনার হার। তবে ঠাকুর দেখার নামে গয়না দেখার এই অভিযোগের নেপথ্যে আর কারা রয়েছে, এখন সেটাই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুজোর আগেই বাঁকুড়া শহরের একটি বেসরকারি লজে আশ্রয় নিয়েছিল অভিযুক্তরা। অভিযোগ, পুজোর দিনগুলিতে বিভিন্ন মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড়কে কাজে লাগিয়ে মূল্যবান সামগ্রী চুরির পরিকল্পনা করেছিল তারা। শহরের একাধিক বড় পুজো মণ্ডপে ঘুরে সোনার গয়না, ঘড়ি ও মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ ওঠে এই চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে। (Pickpocketing Gang)
পুজোর মধ্যেই বাঁকুড়া সদর থানায় পৃথকভাবে অভিযোগ দায়ের করেন দুই মহিলা। তাঁদের অভিযোগ, বাঁকুড়ার নতুনচটি সর্বজনীন এবং মধ্য কেন্দুয়াডিহি সর্বজনীন পুজো মণ্ডপে প্রতিমা দর্শন করতে গিয়ে তাঁদের গলার সোনার হার খোয়া যায়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের সূত্র ধরে গোবিন্দনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকার ওই বেসরকারি লজে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেন তদন্তকারীরা। (Pickpocketing Gang)
ধৃতদের মধ্যে কারও বাড়ি উত্তরপ্রদেশ, কারও বিহার, আবার কেউ ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার বাসিন্দা বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ধৃতদের মধ্যে দু’জন মহিলার বয়স ৬০ বছরের বেশি। পুলিশের দাবি, অভিযোগকারীদের খোয়া যাওয়া দুটি সোনার হার উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ধৃত ১৩ জনকে বাঁকুড়া জেলা আদালতে পেশ করা হয়। আদালত তাঁদের আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বাঁকুড়া শহরের অন্য কোনও চুরি বা ছিনতাইয়ের ঘটনার সঙ্গে ধৃতদের যোগ রয়েছে কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। পুজোর ভিড়ে মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগে এই গ্রেফতারির পর শহরের পুজো মণ্ডপগুলিতে নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


