কলকাতা: রাজ্যের পালাবদলের পর দুই শিবিরে ভেঙে খান খান তৃণমূল। যার এক পাল্লায় রয়েছেন ঋতব্রত-পন্থী বিদ্রোহীরা। আর অন্য পাল্লায় মমতাপন্থীরা। ‘আসল’ বনাম ‘নকল’ তৃণমূলের লড়াইয়ে রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্ক, জল্পনা তুঙ্গে। এই সবের মাঝে উল্লেখযোগ্যভাবে উঠে এসেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) নাম। নির্বাচনী প্রচারে ‘উস্কানিমূলক’ মন্তব্য সেইসঙ্গে বিদ্রোহীদের একাধিক অভিযোগে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তাঁরই এক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে উঠে এসেছে।
জানা গিয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাক্তন আইনজীবী সঞ্জয় বসু বৈঠক করেছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) সঙ্গে। সূত্রের খবর, প্রায় দু-ঘন্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছে দুজনের। কিন্তু কি নিয়ে বৈঠক, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যদিও, রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
প্রসঙ্গত, সঞ্জয় বসু দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের শীর্ষ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) হয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় আইনি লড়াই লড়েছেন। কয়লা পাচার, নিয়োগ দুর্নীতি-সহ বহু চর্চিত মামলায় অভিষেক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের আইনি সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। ফলে তৃণমূলের অন্দরের নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও আইনি কৌশল সম্পর্কে তিনি অবগত বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
তবে সম্প্রতি সঞ্জয় বসু প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন যে, তিনি আর ভবিষ্যতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) হয়ে মামলা লড়বেন না। সেই ঘোষণার পরই ঋতব্রতের (Ritabrata Banerjee) সঙ্গে তাঁর বৈঠক নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এদিকে বিধানসভার সাম্প্রতিক অধিবেশনেও শাসকদলের অন্দরের মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, বিরোধী দলকে ঘিরে সংঘাতের চেয়ে তৃণমূলের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্বই বেশি চোখে পড়েছে। অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ প্রকাশ্যে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক নানা অভিযোগ তুলে দলীয় নেতৃত্বের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবিও জানান।
এই আবহে সঞ্জয় বসু ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক কৌতূহল আরও বেড়েছে। এটি নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ, নাকি ভবিষ্যতের কোনও বড় রাজনৈতিক বা আইনি সমীকরণের ইঙ্গিত? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজ্য রাজনীতির অন্দরে।


