কলকাতা: ৪ মে ফল প্রকাশ! ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারকে সরিয়ে বাংলার মসনদে বসে বিজেপি। আর ক্ষমতার পালাবদলের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই এবার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সরাসরি দেশের সাংবিধানিক প্রধান ও রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের দ্বারস্থ হচ্ছে কালীঘাট তৃণমূল (Kalighat TMC)!
কেন এমন সিদ্ধান্ত?
ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই কালীঘাট তৃণমূলের (Kalighat TMC) অভিযোগ, বিভিন্ন জায়গায় তাঁদের কর্মীদের হেনস্তা করা হচ্ছে। কোথাও বাড়িঘর ভাঙচুর, কোথাও হামলার অভিযোগ। যদিও বিজেপির দাবি, অন্যায় যে-ই করুক, রং না দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে একের পর এক ঘটনা রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়েছে।
সোনারপুরে নিহত কর্মীর বাড়ি যাওয়ার পথে ডিম হামলার মুখে পড়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। হালিশহরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে কাদা-জল ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। একাধিক তৃণমূল নেতাও ডিম হামলার মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ।
আর এবার বৃহস্পতিবার ভোরে ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ! দপ্তরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের মারধর করা হয়েছে বলেও দাবি তৃণমূলের।
পরপর এমন ঘটনায় উদ্বিগ্ন কালীঘাট (Kalighat TMC)। তাই এবার আর শুধু রাজনৈতিক মঞ্চে অভিযোগ নয়! সরাসরি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং বাংলার রাজ্যপাল আরএন রবির সঙ্গে দেখা করে গোটা পরিস্থিতি জানাতে চাইছে তৃণমূল।
রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই দু’জনকেই চিঠি পাঠিয়ে সাক্ষাতের সময় চাওয়া হয়েছে। তবে এখানেই তৈরি হচ্ছে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক কৌতূহল। যে বিজেপি একসময় তৃণমূল জমানার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বারবার রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হওয়ার দাবি তুলত, ক্ষমতার হাতবদলের পর এবার সেই একই পথেই হাঁটছে মমতার তৃণমূল (Kalighat TMC)! তাহলে কি বাংলার রাজনীতিতে শুরু হল ‘উল্টো স্রোত’? নাকি এই সাক্ষাৎ ঘিরেই এবার আরও বড় রাজনৈতিক সংঘাতের ইঙ্গিত?


