Aaj India Desk, হুগলি : ৯৪ বছরের ঐতিহ্যে ছেদ। দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন ঘিরে বিতর্কে চুঁচুড়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি (Chinsurah Durga Puja)। বিসর্জনের সময় প্রতিমার হাত ভেঙে যাওয়া এবং প্রতিমা নামানোর ক্ষেত্রে প্রশাসনিক অব্যবস্থার অভিযোগ তুলে হুগলি-চুঁচুড়া পৌরসভা ও পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিল পুজো উদ্যোক্তারা। তাঁদের দাবি, পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবককে ঘাটে ঢোকার অনুমতি না দেওয়া এবং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পৌরসভার কর্মীদের উপস্থিতি না থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বিসর্জন ঘিরে কেন বিতর্ক?
চুঁচুড়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির (Chinsurah Durga Puja) দাবি, কামারপাড়ার এই পুজোর প্রতিমা বিসর্জনের এমন ঘটনা গত ৯৩ বছরে কখনও ঘটেনি। উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, বিসর্জনের রাস্তার ধারে থাকা গাছ কেটে সরানোর ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে প্রতিমা নিয়ে যাওয়ার সময় মায়ের হাত ভেঙে যায়। এই ঘটনায় পুজোর সঙ্গে যুক্ত সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
৫০ জনের বদলে অনুমতি মাত্র ১২ জনকে
পুজো উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, প্রতিমা কাঁধে করে বিসর্জন দিতে তাঁদের প্রায় ৫০ জনের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু পুলিশ মাত্র ১২ জনকে ঘাটে ঢোকার অনুমতি দেওয়ার কথা জানায়। শেষ মুহূর্তে পুলিশের সঙ্গে বৈঠকেও বিষয়টি জানানো হয়েছিল বলে দাবি সমিতির।
উদ্যোক্তাদের আরও অভিযোগ, প্রতিমা নামানোর জন্য ঘাটে পৌরসভার কর্মীরা থাকবেন বলে তাঁদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে কয়েকজন কর্মী ছাড়া বাকিদের দেখা মেলেনি। এর জেরেই প্রতিমাটি লরি থেকে রাস্তায় নেমে যায়। পরে অন্নপূর্ণা ঘাটের সিঁড়ি দিয়ে নামানোর সময় প্রতিমা ও কাঠামোর ক্ষতি হয় বলে দাবি তাঁদের। (Chinsurah Durga Puja)
এই ঘটনার জন্য হুগলি-চুঁচুড়া পৌরসভা এবং পুলিশ প্রশাসনকে দায়ী করেছে চুঁচুড়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, বিসর্জনের রাস্তার গাছ ও বৈদ্যুতিক তারের সমস্যা মেটানোর জন্য প্রশাসনের কাছে একাধিকবার লিখিত আবেদন করা হয়েছিল। পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকেও পর্যাপ্ত লোক নিয়ে ঘাটে প্রবেশের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল বলে দাবি তাঁদের। ঘটনায় চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সমিতি। উদ্যোক্তাদের দাবি, বিধায়ক ওই সময় উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তাঁদের এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
সমিতির বক্তব্য, এই পুজো শুধু কামারপাড়ার নয়, গোটা চুঁচুড়া শহরের ঐতিহ্য ও আবেগের সঙ্গে জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিসর্জনের রীতি বজায় রাখা এবং আগামী দিনে এমন পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।বিসর্জন ঘিরে এই অভিযোগের পর প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন দেখার।


