Aaj India Desk, কলকাতা : ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে চাপে পড়েছে কলকাতা পুরসভা। বৃহস্পতিবার আচমকাই কলকাতা পুরসভার নির্ধারিত মাসিক অধিবেশন ও তার আগে মেয়র পরিষদের বৈঠক বাতিল হয়। এই পরিস্থিতিতে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) ইস্তফা নিয়ে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
কেন একের পর এক বাতিল বৈঠক ?
সোমবার ১৮ মে নির্ধারিত মেয়র পরিষদের বৈঠক আচমকাই স্থগিত করা হয়। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) জানান, নতুন দিন পরে ঘোষণা করা হবে। পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডে বৈঠকে সময় দিতে পারবেন না বলে জানানোতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই মেয়র এবং কমিশনারের মধ্যে প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট।
ওয়েবসাইট থেকেও লোপাট ছবি
এরই মধ্যে নতুন বিতর্ক তৈরি হয় কলকাতা পুরসভার সরকারি ওয়েবসাইট ঘিরে। কিছু সময়ের জন্য মেয়র ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) ছবি ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। পরে অবশ্য সেই ছবি পুনরায় দেখা যায়। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। যদিও পুর কর্তৃপক্ষের তরফে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
ববির উপর ক্ষুব্ধ মমতা ?
বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোতেও পরিবর্তন এসেছে। সেই আবহে তৃণমূল পরিচালিত কলকাতা পুরসভাকে এখন নতুন রাজ্য সরকারের সঙ্গে কাজ করতে হবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রভাব পুর প্রশাসনের কাজেও পড়তে শুরু করেছে। এমনকি সম্প্রতি অভিষেকের ১৭ টি ঠিকানায় নোটিস পাঠানো নিয়েও ফিরহাদ হাকিমকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি জানান যে এই বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। কলকাতা পুরসভার অভ্যন্তরে সমন্বয়ের এই অভাব থেকেই ববি হাকিম ইস্তফা দিতে পারেন বলে একটি জল্পনা শুরু হয়। তবে পুরসভার রাশ আলগা হওয়ার জোগাড় হতেই তড়িঘড়ি কাজে নেমেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজকেই বিকেল ৪ টেয় বৈঠক ডেকেছিলেন তিনি। এবার সেই বৈঠকের জেরে আদৌ ফিরহাদ হাকিমকে আটকানো যাবে কিনা সে নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
উল্লেখ্য, কলকাতার প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে ফিরহাদ হাকিম ২০১৮ সাল থেকেই কলকাতা পৌরসভার ৩৮তম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজ্য সরকারের নগরোন্নয়ন, পৌর দপ্তর ও আবাসন মন্ত্রী হিসেবেও তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ববি পুরসভার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেবেন কিনা সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।


