Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ছাব্বিশের ভোটের আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) রীতিমত ঝড় তুলেছিল একটা গান-“মাছ চোর… মাছ চোর… শওকত তো মাছ চোর!” রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে চায়ের আড্ডা, সর্বত্রই এই গানের লাইন ঘুরে বেড়িয়েছে। যদিও শওকত মোল্লার (Shaukat Mulla) বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগের কোনও প্রমাণ সামনে আসেনি। তবু রাজনীতির মাঠে অভিযোগই অনেক সময় সবচেয়ে বড় অস্ত্র হয়ে ওঠে।
তবে একটা বিষয় নিয়ে এলাকায় কারও দ্বিমত নেই- শওকত মোল্লার জীবনতলার মৌখালির বাংলো যেন আলাদা এক জগৎ। চারপাশে বিস্তীর্ণ মাছের ভেড়ি, মাঝখানে বিলাসবহুল দোতলা বাড়ি। এক সময় যেখানে সকাল-সন্ধ্যায় অনুগামীদের আনাগোনা লেগেই থাকত, এখন সেখানে নাকি নেমে এসেছে অদ্ভুত নীরবতা।
স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, ভোটে হারের পর থেকেই কার্যত জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না শওকত মোল্লাকে। কেউ বলছেন তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন। আবার কারও দাবি, তিনি এখনও বাংলোতেই রয়েছেন, তবে আগের মতো প্রকাশ্যে আসছেন না। বাড়ির ভিতরে গ্রিলে ঝুলছে তালা, বাইরে নিস্তব্ধ পরিবেশ- আর তা নিয়েই বাড়ছে জল্পনা।
এক সময় ক্যানিং এলাকার রাজনীতিতে শওকতের প্রভাব ছিল চোখে পড়ার মতো। তাঁর বাড়িতেই নাকি চলত রাজনৈতিক বৈঠক, কর্মীদের ভিড় লেগেই থাকত। কিন্তু ভোটের ফলাফল বদলে দিয়েছে অনেক সমীকরণ। ভাঙড় কেন্দ্রে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে লড়াই করে বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছে তাঁকে। দ্বিতীয়বারের জন্য জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন নওশাদ। আর তারপর থেকেই প্রশ্ন- কোথায় গেলেন শওকত?
যদিও শওকত ঘনিষ্ঠদের দাবি, এটা সাময়িক পরিস্থিতি। তাঁদের কথায়, “মানুষ এবার আমাদের ভোট দেয়নি ঠিকই, কিন্তু আমরা মাঠ ছাড়ছি না। আগামী দিনে আবার ঘুরে দাঁড়াব।” তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলছে, এক সময়ের দাপুটে নেতার এই নীরবতাই এখন সবচেয়ে বড় রহস্য। মাছের ভেড়ি ঘেরা বাংলো, তালাবন্ধ গ্রিল আর হঠাৎ অন্তর্ধান- সব মিলিয়ে শওকত মোল্লাকে ঘিরে ক্যানিং-ভাঙড়ের রাজনীতিতে এখন জল্পনার পারদ তুঙ্গে।


