Aaj India Desk, কলকাতা: ক্ষমতা হারানোর ধাক্কা এখনও টাটকা। তার উপর ভবানীপুরের মতো শক্ত ঘাঁটিতেও শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) কাছে হারতে হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) । স্বাভাবিকভাবেই এই ফলাফলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) অন্দরে হতাশা তৈরি হয়েছে। তবে এত বড় ধাক্কার পরও যে দল লড়াইয়ের ময়দান ছাড়তে নারাজ, সেটাই স্পষ্ট করে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ফের একবার দলের নির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন তিনি। আগে থেকেই খবর ছিল, পরিষদীয় দলের এই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাই সকাল থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছিল। বিজেপির উত্থানের পর তৃণমূলের পরবর্তী রণকৌশল কী হতে চলেছে, এবং দল কী বার্তা দেয়, সেদিকেই নজর ছিল সবার।
বিকেলের বৈঠক শেষে স্পষ্ট হয়ে যায়, আপাতত পিছিয়ে গেলেও বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পথেই হাঁটতে চাইছে তৃণমূল। বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আজ বিজেপি ক্ষমতায় থাকলেও আগামী দিনে কেন্দ্রে তারা থাকবে না। মানুষই তাদের সরিয়ে দেবে।”
তবে শুধু বিজেপিকে ঘিরে রাজনৈতিক লড়াই নয়, দলের ভিতরের কিছু অস্বস্তির বিষয়ও উঠে আসে এদিনের বৈঠকে। বিশেষ করে ফলতার নেতা জাহাঙ্গির খান ওরফে ‘পুষ্পা’-র প্রসঙ্গ ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। ইতিমধ্যেই তিনি ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তে দলের অন্দরে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেই খবর পাওয়া গেছে।
বৈঠকে একাধিক বিধায়ক প্রশ্ন তোলেন, জাহাঙ্গির কি দলের সঙ্গে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন? যদি না নিয়ে থাকেন, তাহলে কেন এমন পদক্ষেপ করা হল, যা সরাসরি দলের ভাবমূর্তির উপর প্রভাব ফেলছে? অনেকের মতে, ভোটের মুখে এভাবে সরে দাঁড়ানো কার্যত বিরোধীদের সুবিধা করে দেওয়া।
শুধু প্রশ্ন তোলাই নয়, কয়েকজন বিধায়ক বৈঠকে জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার দাবিও তোলেন। এমনকি তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করার দাবিও ওঠে বলে সূত্রের খবর। যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।


