Aaj India desk, নয়াদিল্লি: সুপ্রীম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেছিলেন, “দেশের কিছু বেকার যুবকের অবস্থা ‘আরশোলা’ বা ‘পরজীবী’র মতো, যারা চাকরি বা পেশা না পেয়ে মিডিয়া, সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা আরটিআই কর্মী সেজে সিস্টেমকে আক্রমণ করে।” এই কথায় দেশের যুবসমাজ যথেষ্ট অপমানিত হয়। ফলে বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন যে, তাঁর মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কিন্তু তাতে কিন্তু চিড়ে ভেজেনি। তাঁর কথাকে নিয়েই এবার তৈরি হয়ে গেল কক্রোচ জনতা পার্টি(Cockroach Janta Party)!
কি এই কক্রোচ জনতা পার্টি?
কক্রোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party) আসলে একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন রাজনৈতিক গোষ্ঠী। দেশের তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ ও প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে সামাজিক মাধ্যমে সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে। এটি কোনো অফিশিয়াল রাজনৈতিক দল নয়।তবে এর প্রতিষ্ঠাতা হলেন অভিজিৎ দীপকে নামে বোস্টন ইউনিভার্সিটির পাবলিক রিলেশন্সের একজন ছাত্র।আগে তিনি আম আদমি পার্টির সোশ্যাল মিডিয়া টিমের সাথে যুক্ত ছিলেন। এর মধ্যেই ১ লক্ষেরও বেশি মানুষ অনলাইনে এর সদস্যপদ গ্রহণ করেছে। দেশের তরুণ প্রজন্ম অর্থাৎ জেন-জিরাই প্রধানত এর সদস্য হয়েছেন। পাশাপাশি দেশের কিছু হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও এতে প্রতীকীভাবে যোগ দিয়েছেন। সেই তালিকায় নাম আছে মহুয়া মৈত্র কীর্তি আজাদের।
হঠাৎ কেন এত জনপ্রিয় হল এই পার্টি?
ভোটের ফল যাই হোক, দেশের হালচাল দেখে এমনিতেই দেশের যুব সমাজ বিরক্ত। চাকরির বাজারের খারাপ অবস্থা, নিট সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস.. নানাবিধ কারণে তাদের হতাশা চরমে পৌঁছেছে। এই অবস্থায় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বক্তব্য যেন আগুনে ঘি ঢেলেছে। এমনিতেই দেশের আইন বিভাগের মাথাদের অবসরের পর বিভিন্ন সরকারি পদে যোগদান করায় বিচারবিভাগের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন উঠে গেছে। এই অবস্থায় নতুন এই কক্রোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party) যুবসমাজের কাছে একটা প্রতিবাদের মাধ্যম।ব্যঙ্গের আড়ালে তাদের ৫ দফার ইস্তেহারে তোলা কিছু গুরুতর দাবি থেকেই তা বোঝা যায়। যেমন
* কোনো প্রধান বিচারপতি অবসর নেওয়ার পর পুরস্কার হিসেবে রাজ্যসভার আসন পাবেন না।
* দলত্যাগ করা কোনো বিধায়ক বা সাংসদ ২০ বছর নির্বাচন লড়তে পারবেন না।
* সংসদে নারীদের জন্য ৫০% আসন সংরক্ষণ করতে হবে।
* অম্বানি ও আদানির মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যমগুলোর লাইসেন্স বাতিল করতে হবে।
বিচারপতি সূর্য কান্ত আরশোলা বলে ব্যঙ্গ করতে চেয়েছিলেন দেশের যুবসমাজকে। কিন্তু আরশোলার সহনশক্তির কথা ভুলে গেছিলেন তিনি। দেশের যুবসমাজ তাদের আরশোলার মত সহনশক্তিকেই যেন প্রতিবাদের মাধ্যম করে তুলেছে।


