Aaj India Desk, নদিয়া : শনিবার নদিয়ার কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে হাজিরা দেন কবি শ্রীজাত ব্যানার্জি (Srijato Banerjee)। ২০১৯ সালে দায়ের হওয়া একটি মামলায় আদালত শেষ পর্যন্ত আজ তাঁকে শর্তসাপেক্ষ জামিন মঞ্জুর করে। তবে কবিকে ব্যক্তিগত বন্ড হিসেবে ২ হাজার টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি আপাতত কৃষ্ণনগর ও কলকাতার বাইরে যেতে পারবেন না বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে রাজ্যে।
কেনো দায়ের হয়েছিল মামলা ?
২০১৯ সালে আইনজীবী রোমিত শীল শ্রীজাতের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ২০১৭ সালে প্রকাশিত শ্রীজাতর ‘অভিশাপ’ কবিতাকে ঘিরে তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, কবিতার একাধিক লাইন হিন্দু ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছে। বিশেষ করে শিবলিঙ্গ সংক্রান্ত একটি লাইন নিয়ে আপত্তি তোলেন তিনি।
উল্লেখ্য, এই কবিতাটি ২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যোগী আদিত্যনাথের শপথগ্রহণের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন শ্রীজাত।
বারবার সমন সত্ত্বেও হাজিরা দেননি
মামলার শুনানির জন্য আদালতের তরফে শ্রীজাতকে একাধিকবার সমন পাঠানো হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত দিনে কবি হাজির না হওয়ায় গত ২০ এপ্রিল তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। নির্বাচনের আবহে এই নির্দেশ প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছিল। একাংশের দাবি ছিল, ভোটের আবহেই বিষয়টি ফের সামনে আনা হয়েছে। যদিও সেই সময় নির্বাচন কমিশনের তরফে সেই অভিযোগ খারিজ করা হয়।
এরপর শনিবার আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন জানান শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায় (Srijato Banerjee)। বাদীপক্ষের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, বারবার সমন সত্ত্বেও কবি হাজির হননি, তাই তাঁকে জামিন দেওয়া উচিত নয়।তবে উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর শেষ পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষ জামিন মঞ্জুর করে আদালত।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন
ঘটনার পর থেকেই সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক মহলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সৃজনশীলতার পরিসর এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ধর্মকে বারবার রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক বলেই মনে করছেন অনেকেই। সমালোচকদের একাংশের দাবি, কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Srijato Banerjee) লেখাকে ঘিরে যে মামলা ও আইনি চাপ তৈরি হয়েছে, তার নেপথ্যে রাজনৈতিক বিরোধিতার প্রশ্নও রয়েছে। কারণ, কবিতাটি সরাসরি যোগী আদিত্যনাথ এবং বিজেপির রাজনীতির সমালোচনায় লেখা হয়েছিল। সেই কারণে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগকে সামনে এনে ভিন্নমত বা রাজনৈতিক সমালোচনাকে চাপে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সাহিত্য, ব্যঙ্গ বা রাজনৈতিক কবিতাকে যদি বারবার ধর্মীয় বিতর্কে টেনে আনা হয়, তাহলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সৃজনশীলতার পরিসর আরও সংকুচিত হতে পারে বলেই আশঙ্কা সাংস্কৃতিক মহলের একাংশের।


