Aaj India Desk, পশ্চিম বর্ধমান : গত বৃহস্পতিবারই ধর্মীয় স্থানে লাউডস্পিকার (Loudspeaker) ব্যবহারের উপর সরকারি বিধি জারি করা হয়। বিজেপি সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলে নির্দিষ্ট ডেসিবেলের উপর মন্দির ও মসজিদে লাউডস্পিকার ব্যবহার করা যাবে না। এই বিধি ঘিরেই এবার উত্তেজনা ছড়াল আসানসোল এলাকায়।
কীভাবে শুরু হয় অশান্তি ?
সম্প্রতি রাজ্য সরকারের তরফে দেওয়া ওই লাউডস্পিকার (Loudspeaker) সংক্রান্ত নির্দেশিকা মেনে শব্দদূষণ নিয়ে সচেতনতা বার্তা দিতে রেলপাড় এলাকায় যায় পুলিশ। স্থানীয় মন্দির ও মসজিদ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের বৈঠকও শুরু হয়। এর মাঝেই আচমকা পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একদল দুষ্কৃতী জাহাঙ্গির মহল্লা পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালায়। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছোড়া হয় এবং ফাঁড়ির ভিতরে ঢুকে ভাঙচুর চালানো হয়। এলাকায় স্লোগানও দেওয়া হয়।
ঘটনার জেরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ও সাধারণ মানুষের একাধিক গাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের বিশাল বাহিনী। পরে র্যাফ নামানো হয়।পুলিশের দাবি, ঘটনায় অন্তত পাঁচ জন পুলিশকর্মী জখম হয়েছেন।
‘জিরো টলারেন্স’ বার্তা পুলিশের
আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনার প্রণব কুমার জানান, জমায়েতের মধ্য থেকেই আচমকা কিছু দুষ্কৃতী পাথর ছোড়া শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে হামলাকারীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “কাউকে ছাড়া হবে না।” বর্তমানে এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চলছে। বিশাল পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন বিজেপি বিধায়ক তথা মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, “আইন সকলের জন্য সমান। কোনও ধর্মের দোহাই দিয়ে জনজীবনে সমস্যা তৈরি করা বরদাস্ত করা হবে না। শব্দদূষণ সীমার উপরে মাইক (Loudspeaker) বাজানো যাবে না। পুলিশকে আর ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে থাকতে দেওয়া হবে না।”
আসানসোলের ঘটনার পর রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও ধর্মীয় স্থানে শব্দবিধি কার্যকর করা নিয়ে প্রশাসন আরও সতর্ক হতে পারে। সিসিটিভি নজরদারি, স্থানীয় বৈঠক এবং পুলিশি উপস্থিতি বাড়ানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে রাজ্য সরকার ধর্মীয় স্থানে লাউডস্পিকারের শব্দসীমা বেঁধে দিলেও, বাস্তবে বহু এলাকায় এই বিষয়টি সামাজিক ও রাজনৈতিক স্পর্শকাতর ইস্যু। ফলে কেবল নির্দেশিকা জারি করলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে, এমনটা নয় বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক মহলের একাংশ।


