Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় জ্বালানি সাশ্রয়ের দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে একাধিক দেশ। এই কারণে বিশ্বের বহু সরকার নাগরিকদের কম জ্বালানি ব্যবহার করার জন্য বিভিন্ন নির্দেশ ও পরামর্শ দিচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও (Narendra Modi) সম্প্রতি অনলাইন ক্লাস (Online Class) এবং বাড়ি থেকে কাজ (Work From Home) বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোর কথাও বলা হয়েছে।
শুধু ভারত নয়, বিশ্বের প্রায় ৪০টিরও বেশি দেশ ইতিমধ্যেই জ্বালানি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। কোথাও গাড়ির ব্যবহার সীমিত করা হয়েছে, কোথাও আবার যানবাহনের গতি কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিছু দেশে কর ছাড়ের মতো পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। আবার কয়েকটি দেশে রান্নার গ্যাস ও তেলের ব্যবহার কমানোর জন্য বিশেষ নিয়ম চালু হয়েছে, যেমন সিলিন্ডার আংশিক ভরা রাখা বা বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের উৎসাহ দেওয়া।
প্রায় ১৮টি দেশে এমন নিয়ম তৈরি করা হচ্ছে যেখানে মানুষ একদিন পরপর গাড়ি ব্যবহার করছে। অনেক জায়গায় সরকারি ও বেসরকারি অফিসে ওয়ার্ক ফ্রম হোম ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে এবং জনগণকে সচেতন করার জন্য প্রচারও চলছে। কিছু দেশে যেমন পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া সহ বিভিন্ন দেশে অফিসের কাজের দিন কমানো হয়েছে বা কর্মীদের কিছু ক্ষেত্রে বাড়ি থেকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, পেরু ও মিশরেও এ ধরনের ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে।
এসি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রণ আনা হয়েছে। বাংলাদেশ, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড ও জর্ডানে এসির তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার নির্দেশ রয়েছে, যাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যবহার কমে। এছাড়াও কিছু দেশে সরকারি কর্মীদের বিদেশ সফর সীমিত করা হয়েছে। আবার বিভিন্ন জায়গায় স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস চালু করা হয়েছে বা নির্দিষ্ট দিনে বন্ধ রাখা হচ্ছে।
শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও মালদ্বীপসহ কয়েকটি দেশে গ্যাস ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আনা হয়েছে। অন্যদিকে ইউরোপের কিছু দেশ যেমন ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও চিলি বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারে জোর দিচ্ছে। নেদারল্যান্ডস ও স্পেনে সৌরশক্তি ব্যবহারের উদ্যোগও বাড়ানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে জ্বালানি সংকট ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে শক্তি ব্যবহারে কড়া নিয়ন্ত্রণ ও সাশ্রয়ের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।


