Aaj India Desk, দক্ষিণ দিনাজপুর : দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারিতে সাঁওতাল বিদ্রোহের দুই মহান নেতা সিধু ও কানহুর মূর্তি ভাঙাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল এলাকায়। সেই ঘটনাকে ঘিরে উত্তাল আদিবাসী সম্প্রদায় (Tribal)। সোমবার এর প্রতিবাদে আদিবাসী সম্প্রদায়ের বহু মহিলা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, রবিবার দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারী গ্রামে আদিবাসী (Tribal) সম্প্রদায়ের সিধু কানহুর মূর্তি ভেঙে ফেলে BJP ও RSS সমর্থকরা।ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবাদে সামিল হন স্থানীয় আদিবাসী মহিলারা। সেই প্রতিবাদের অংশ হিসেবেই তাঁরা কাটারি জাতীয় অস্ত্র নিয়ে রাজপথে নেমে বিক্ষোভ দেখান এবং দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি তোলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
স্থানীয় মানুষের একাংশের দাবি, বংশীহারিতে তাঁদের মূর্তি ভাঙার ঘটনা শুধুমাত্র একটি ভাঙচুরের ঘটনা নয়, বরং আদিবাসী (Tribal) সমাজের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের উপর আঘাত। বঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই আদিবাসী সমাজের ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি এবং লৌকিক ঐতিহ্যকে অবহেলা করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে সিধু-কানহুর মূর্তি ভাঙার অভিযোগ আদিবাসীদের মধ্যে আরও ক্ষোভ তৈরি করেছে।
ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে শাসকদলের সমর্থকরা ঘটনাকে পরিকল্পিত উসকানি বলে দাবি করেছে। তাঁদের মতে, তৃনমূল কংগ্রেসের কর্মীরাই বিজেপির ও rss এর পতাকা নিয়ে ইচ্ছাকৃত এইসব দুষ্কর্ম করছে এবং বিজেপিকে মানুষের কাছে ভুল ভাবে তুলে ধরছে। যদিও তৃনমূল কংগ্রেসের তরফে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
তবে বংশীহারির ঘটনায় আদিবাসী মহিলাদের যেভাবে একজোট হয়ে রাস্তায় নামতে দেখা গেল, তা শুধুমাত্র একটি প্রতিবাদ নয়, বরং সমাজের ভিতরে গড়ে ওঠা ঐক্য ও আত্মসম্মানের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ। গ্রামাঞ্চলের বহু মহিলা হাতে পতাকা নিয়ে, স্লোগান তুলে এবং সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদে অংশ নেন। স্থানীয়দের মতে, আদিবাসী সমাজে মহিলারা দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। সেই ঐতিহ্যের প্রতিফলনই দেখা গেল এই বিক্ষোভে।


