Aaj India Desk, কলকাতা : রাজ্যে চাকরি দুর্নীতি ইস্যুতে (Job Scam) ফের শুরু হয়েছে চাপানউতোর। প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু গ্রেপ্তার হতেই সামনে এসেছে একাধিক তথ্য। সেই তথ্য অনুযায়ীই বিভিন্ন পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করছে শিবির।
কোন পদে কত টাকার অভিযোগ ?
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে আনা হয়েছে একটি তথাকথিত ‘রেট কার্ড’, যেখানে বিভিন্ন সরকারি ও পৌরসভার চাকরির জন্য টাকার অঙ্ক উল্লেখ করা হয়েছে। প্রচারিত তালিকা অনুযায়ী, পৌরসভার শ্রমিক, ড্রাইভার, স্যানিটেশন ওয়ার্কার এবং গ্রুপ ডি পদে চাকরির জন্য ৪ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গ্রুপ সি এবং টাইপিস্ট পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে।
এই অভিযোগ ঘিরে রাজ্য জুড়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। চাকরির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি এবং বহু যোগ্য প্রার্থী বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি রাজ্যবাসীর।
তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে ইডি
দমদম পুরসভায় প্রায় ১৫০ জন চাকরিপ্রার্থীর নামের সুপারিশ করা হয়েছিল। তার মধ্যে অন্তত ৪০ জনের নাম সুপারিশ করেছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু। তাই তাঁকে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করে এই দুর্নীতি (Job Scam) মামলায় গোপন তথ্য পেতে পারেন বলে জানিয়েছেন ইডি আধিকারিকরা। আজই তাঁকে আদালতে পেশ করে আরও ১০ দিনের হেফাজতে রাখার অনুমতি চেয়েছে ইডি। অন্তত ৮ কোটি টাকার সম্পত্তির হিসাব দেখাতে পারেননি সুজিত বসু। সেই টাকার হিসেবও খুঁজতে চান তাঁরা।
চাকরির আশায় বছরের পর বছর প্রস্তুতি নেওয়া হাজার হাজার সাধারণ যুবক-যুবতীর কাছে এই ধরনের দুর্নীতি গভীর হতাশা তৈরি করেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় যোগ্য প্রার্থীদের একাংশ নিজেদের বঞ্চিত বলে মনে করছেন। বিশেষ করে গ্রামীণ ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে, কারণ সরকারি চাকরিই তাঁদের কাছে আর্থিক স্থিতিশীলতার প্রধান ভরসা। ফলে দীর্ঘদিন নিয়োগ আটকে থাকা এবং দুর্নীতির (Job Scam) অভিযোগ সামনে আসায় সাধারণ মানুষের প্রশাসনের উপর আস্থাতেও প্রভাব পড়েছে যার স্পষ্ট ছাপ দেখা গিয়েছে এইবারের বিধানসভা নির্বাচনে।


