28 C
Kolkata
Wednesday, May 6, 2026
spot_img

বাম থেকে রাম! যাদবপুরের পরিবর্তন কোন পথে?

Aaj India desk, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের কেন্দ্রগুলির মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র যাদবপুর। অতীতে বহু তারকা প্রার্থী এখানে লড়াই করেছেন। এছাড়াও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চিরকালই মুক্তচিন্তার প্রতিষ্ঠান। ফলে প্রত্যেকটা ভোটেই যাদবপুরের দিকে বরাবরই আলাদা নজর থাকে। অনেক তারকা প্রার্থী এখানে লড়েছেন। বিশেষ করে বামপন্থীদের ( leftist )জন্য এই কেন্দ্র বিশেষ আবেগের জায়গা। জীবনের শেষ নির্বাচনে এখন থেকেই লড়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। একদা বাম( leftist ) দুর্গ এখন রামের দখলে।

যাদবপুর মানেই বাম ?

১৯৪৭ সালে ছিন্নমূল মানুষেরা এসে আশ্রয় নেন যাদবপুরে। সরকারি সাহায্য না পেলেও প্রথম থেকে তাদের পাশে থেকেছেন বামপন্থীরা( leftist )। নকশাল আমলে এই অঞ্চলের অনেক যুবক সশস্ত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে জেলে যান অথবা খুন হন। এরপর বামপন্থীরা ( leftist )এসে তাঁদের মুক্তি দেয়। বাম আমলেই দখলীকৃত জমির দলিল পান উদ্বাস্তুরা। ফলে বামেদের প্রতি তাঁদের আলাদা টান জন্মায়।এলাকার উদ্বাস্তু পরিবারগুলির শিশু-কিশোররা যুবক বয়সে পার্টির হয়ে রাস্তায় নামতেন। কলোনি কমিটি, স্কুল, কলেজ পরিচালন সমিতি, বাজার, ক্লাব কমিটি সবই ছিল তাদের দখলে। এলাকার সব ব্যাপারেই তাদের নিয়ন্ত্রণ। কালক্রমে এই নিয়ন্ত্রণ মাত্রা ছাড়ায়।

বামদুর্গে ফাটল ?

ব্যক্তিগত বিষয়ে নাক গলানো, শেষ দিকে চাকরির ব্যাপারে পক্ষপাত এবং সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের অভিঘাত বাম( leftist ) কর্মীদেরও বিরক্ত করে তোলে। এছড়াও উদ্বাস্তু কলোনি ততদিনে উন্নয়নের জোয়ারে ভেসে ফ্ল্যাট কলোনি। বাইরে থেকে যারা সেই ফ্ল্যাটে ফলশ্রুতি ২০১১ সালে পরিবর্তন ঝড়ে হেরে যান তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। জয়ী হন একদা বুদ্ধদেবের দপ্তরের অধিনস্ত মণীশ গুপ্ত। এরপর অবশ্য ২০১৬ তে আবার বামেদের( leftist ) কাছে ফিরে যায়, বিধায়ক হন সুজন চক্রবর্তী। কিন্তু আবার খেলা ঘোরে ২০২১ এ। এলাকায় কাজের মানুষ কাছের মানুষ বলে পরিচিত কাউন্সিলর দেবব্রত মজুমদার ওরফে মলয় হন যাদবপুরের বিধায়ক। বিধায়কসুলভ হাবভাব যার মধ্যে এতটুকু নেই। প্রতিদিন বিজয়গর বাজারে বসে আড্ডা দেন, স্কুটার নিয়ে ঘুরে বেড়ান। কিন্তু কাছের মানুষের আশেপাশের মানুষেরা এলাকাবাসীর ততটা কাছের হননি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, “মলয়দার ছেলে বন্ধুদের নিয়ে অনেক অসামাজিক কাজ করে। তৃণমূলের অন্য কর্মীরাও রীতিমত গুন্ডামি করে, মলয়দাও কেবল তৃণমূলের ছেলেদেরই সাহায্য করছিলেন।”

অতঃকিম রাম?

তৃণমূলের গুন্ডামি ক্রমশ সহ্যের বাইরে গেল কিন্তু তবুও বিকল্প হিসেবে বাম ( leftist )নয় কেন?এলাকায় বামেদের মূল শক্তি সেই পুরনো ভোটব্যাঙ্ক এবং আবেগ। এমন নয় এখানে কর্মীরও খুব অভাব। কিন্তু বামেরা এখানে প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যকে। আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যর করা মামলার প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২২ এপ্রিল বাংলার ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। সে প্যানেলের সবাই অযোগ্য ছিলেন না। ফলে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে নিয়ে সন্তুষ্ট নয় এলাকাবাসী।তাই প্রয়াত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকেই আঁকড়ে ধরেছিল বামেরা( leftist )। তাঁর ছবিই প্রচারে ব্যবহার হচ্ছিল। তবুও শেষ রক্ষা হল না। বাম দুর্গ চলে গেল অপরিচিত শর্বরীর কাছে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়তে ব্যর্থ বিকাশ নয়, শক্তিশালী প্রতিপক্ষ বিজেপিকেই তাই বেছে নিল যাদবপুরবাসী। সে যতই প্রার্থী অচেনা হোক। এছাড়াও রিল সর্বস্ব নবীন প্রজন্মের কাছে ‘মোদী হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়।’ যাদবপুর ভবিষ্যতে কাকে বেছে নেবে সে কথা বলবে সময়। তবে কোনও কোনও এলাকাবাসী এখনও আশাবাদী একদিন নিশ্চয়ই বামেরা( leftist ) ফিরবে যাদবপুরে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন