Aaj India Desk, উত্তর ২৪ পরগণা: ২৯ শে এপ্রিল বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হলেও ফল ঘোষণা এখনও বাকি। তার আগেই উত্তর ২৪ পরগনার রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্রে বিজেপি (BJP) কর্মীর দ্বারা এক সবজি বিক্রেতাকে হেনস্তার অভিযোগ ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি রাস্তার ধারে সবজি বিক্রি করতে থাকা একজন নিরীহ বিক্রেতার নাম, বাবার নাম এবং তিনি কোথা থেকে এসেছেন তা জানতে চান। বিক্রেতা নিজের নাম ‘সাদ্দান হোসেন’ বললেও, বাবার নাম বলতে অস্বীকার করেন। এরপরেই তাকে মারার হুমকি দেওয়া হয়। প্রশ্নকারীকে উদ্ধত ভঙ্গিতে বলতে শোনা যায়, “কার অনুমতিতে এখানে বসেছিস?” সাথে অকথ্য গালিগালাজও করেন তিনি।
ভোট মিটতেই ওই এলাকায় উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষিতেই এই ঘটনাটি সামনে আসে বলে দাবি করা হয়। ভিডিওটি দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই একাংশের দাবি, ভিডিওতে প্রশ্নকারী ব্যক্তির নাম আকাশ মুখার্জি এবং তিনি বিজেপির (BJP) সঙ্গে যুক্ত। তবে এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
এই ঘটনাকে ঘিরে সমাজের একাংশে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিক্রেতার নাম জানার পর তাঁর পরিচয়, বাসস্থান এবং বসার অনুমতি নিয়ে বারবার জেরা করার ঘটনাকে অনেকেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট মনোভাবের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। এর আগেই বিজেপি (BJP) নেতাদের বক্তব্য, নির্বাচনী প্রচারণা এবং অন্যান্য ‘ডাবল ইঞ্জিন’ রাজ্য সরকারের কিছু পদক্ষেপ, যেমন ‘বুলডোজার অ্যাকশন’, CAA আইন, হেট স্পিচের অভিযোগ মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও ভয়ের সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং আইন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ওয়াকিবহাল মহল। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার এই সংবেদনশীল পর্যায়ে সব পক্ষেরই সংযত ও দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখা জরুরি বলে মত বিশ্লেষকদের।


