Aaj India Desk, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর প্রথম দফার ভোটের পরেই শুরু হয়ে গিয়েছে আবিরের (Gulal) বেচাকেনা। ৪ মে ফল ঘোষণার দিন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলির প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। তবে অনেকের মতে, এই আবিরের রঙেই মিশে আছে ভোটের ফলাফলের ইঙ্গিত।
কলকাতার বড়বাজার রাজ্যের অন্যতম বড় পাইকারি আবির সরবরাহ কেন্দ্র। সেখানে গত কয়েক দিনে প্রায় রেকর্ড বিক্রি হয়েছে সবুজ ও গেরুয়া আবির। একজন পাইকারি ব্যবসায়ী জানান, “এবার গেরুয়া আবিরের চাহিদা অনেক বেশি। আগে যেখানে সবুজের অর্ডার থাকত, এখন সেখানে গেরুয়া এগিয়ে।” তিনি আরও বলেন, মোট চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশই গেরুয়া, বাকিটা সবুজ।
ব্যবসায়ীদের মতে, এক্সিট পোল প্রকাশের পর থেকেই এই পরিবর্তন স্পষ্ট হয়েছে। বড়বাজারের একাধিক দোকানে দেখা যাচ্ছে, আগে যেখানে সবুজ আবিরের (Gulal) মজুত বেশি ছিল, এখন দ্রুত গেরুয়া আবিরের সরবরাহ বাড়াতে হচ্ছে। উত্তরবঙ্গ, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও হুগলি থেকে গেরুয়া আবিরের চাহিদা বেশি আসছে বলে জানিয়েছেন তারা।
পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকের উত্তর্চড়া ও শঙ্করআড়া এলাকায় আবির কারখানাগুলিতেও ব্যস্ততা বেড়েছে।সাধারণত দোল উৎসবের আগে কয়েক মাস এই কারখানাগুলি চালু থাকে। কিন্তু এবার নির্বাচনের ফলকে কেন্দ্র করে আগেভাগেই উৎপাদন শুরু হয়েছে।কারখানা সূত্রে খবর, বাজারের চাহিদা মেটাতে গেরুয়া ও সবুজ দু’ধরনের আবিরই তৈরি করা হচ্ছে। তবে সেখানেও গেরুয়া আবিরের চাহিদাই আপাতত বেশি।
উল্লেখ্য, এই আবিরের মাধ্যমে নির্বাচনের জয় প্রকাশের সংস্কৃতি নতুন নয়। অতীতেও পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী আবহে আবিরের বাজারে লাল ও সবুজের প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্পষ্ট ছিল। বামফ্রন্ট আমলে নির্বাচনকালে স্বাভাবিকভাবেই লাল আবিরের চাহিদা বেশি থাকত। পরবর্তীকালে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সবুজ আবিরের চাহিদা বাড়ে এবং তা শাসক দলের সমর্থকদের উদ্যাপনের অংশ হয়ে ওঠে। ব্যবসায়ীদের মতে, বড়বাজারে লাল ও সবুজ আবিরের (Gulal) মধ্যে প্রায় সমান প্রতিযোগিতা চলত। বর্তমানে সবুজ ও গেরুয়া আবিরের মধ্যে সেই পুরোনো প্রতিযোগিতা রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের প্রতিফলন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
আবিরের বাজারে এই পরিবর্তনকে অনেকেই ভোটের সম্ভাব্য ফলাফলের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, গেরুয়া আবিরের বাড়তি চাহিদা শুধুমাএ কিছু সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মীদের প্রত্যাশা বা রাজনৈতিক ঝোঁকের প্রতিফলন। বাজারের প্রবণতা সবসময় বাস্তব নির্বাচনী ফলাফলকে প্রতিফলিত করে না। ভোটের চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট হবে শুধুমাত্র ভোট গণনার দিনই।


