Aaj India desk, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বিভিন্ন দল নানা পন্থা নিয়েছে।যার মধ্যে সমাজ মাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও প্রচার করাও রয়েছে। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের এক্স হ্যান্ডল(পূর্বতন টুইটার)থেকে এরকমই এক ভিডিও আজ ভাগ করে নেওয়া হয়,যার নৈতিকতা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
কি দেখা গেছে ভিডিওতে?
ভাগ করে নেওয়া ভিডিওটিতে দেখা গেছে এক উর্দিধারী পুলিশকর্মী (Police) ক্যামেরার সামনে কিছু বক্তব্য রাখছেন। তিনি বলছেন,”নমস্কার আমি রামকৃষ্ণ কয়াল। পেশায় একজন কলকাতা পুলিশের (Police)কর্মী।২৩ বছর কর্মজীবন অতিবাহিত, এখনও ১৭ বছর কর্মজীবন বাকি আছে।তো এই তেইশ বছরের কর্মজীবনে ১৫ বছর তৃণমূল সরকারের আমলে। ১৫ বছরে আমি দেখলাম, কীভাবে ডিপার্টমেন্টের শ্রেণীকরণ হচ্ছে। কিভাবে হিন্দুকে বাঙালিকে মুসলিম হওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।আসন্ন নির্বাচনে দক্ষিণবঙ্গের সমস্ত বাঙালির কাছে আমার আবেদন আপনারা এমন ভাবে ভোট করুন, ভোট দিন, যাতে সরকারের পরিবর্তন হয়।”
এই ভিডিও সামনে আসতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। আদৌ কোনো উর্দিধারী এভাবে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক মন্তব্য করতে পারেন কিনা সেই নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
পিএসসি (PSC) নিয়ম কি বলে?
পিএসসি (PSC)নিয়ম অনুসারে চাকরি চলাকালীন,কোনো কর্মী প্রকাশ্যে কোনো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন বা বিরোধিতা করতে পারেন না।কোনরকমভাবেই ভোটপ্রচারের অংশ হতে পারেন না তাঁরা। বিশেষত উর্দিধারী পুলিশের (Police)ক্ষেত্রে কড়া বিধিনিষেধ রয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি ভুলক্রমেও একাজ করে থাকেন তাহলে তাকে শাস্তির মুখে পড়তে হবে।নির্বাচন চলাকালীন একাজ করলে নির্বাচন কমিশনও উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে পারে।
এক্ষেত্রে কি হবে?
জানা গেছে ভিডিওর বক্তা কলকাতা সশস্ত্র পুলিশের (Police) ১ম ব্যাটালিয়নের কনস্টেবল রামকৃষ্ণ কয়াল। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই রাজনৈতিক-সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করার জন্য কলকাতা পুলিশ (Police)ইতিমধ্যেই তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরখাস্ত করেছে।চাকরির নিয়মের পরিপন্থী কাজ করাতেই দ্রুত বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তাকে।
প্রশ্ন উঠছে কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপির রাজ্য শাখা কি করে কেন্দ্রীয় সংস্থার নীতিবিরুদ্ধ কাজ করা একজনের বক্তব্যকে প্রচারের হাতিয়ার করতে পারে? রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য যে পিএসসির (PSC) নিরপেক্ষতা নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছে সেই পিএসসির (PSC)নিয়ম বহির্ভূত কাজকে তারা মেরুকরণের কাজে লাগাচ্ছে। ফলে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে।


