Aaj India Desk, কলকাতা : বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রাক্কালে রাজ্য জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে চালানো বাড়ানো হয়েছে তল্লাশি ও নজরদারি। এর মধ্যেই কমিশনের (ECI) নির্দেশে প্রায় ১৫০০ এর বেশি ‘সমস্যাজনক’ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুর থেকে আজ সকাল পর্যন্ত কড়া কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজার (CBM) চালিয়ে এই বিপুল সংখ্যক গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্যে।
কোথায় কতজন গ্রেপ্তার ?
গতকাল দুপুর থেকে আজ সকাল পর্যন্ত প্রায় ২৪ ঘণ্টায় মোট ১,০৯৫ জনকে আটক করা হয়েছে। গত ৩৬ ঘণ্টায় মোট ১,৫৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলাভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে পূর্ব বর্ধমানে। এই জেলায় প্রায় ৪৭৯ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া উত্তর ২৪ পরগনায় ৩১৯ জন, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ২৪৬ জন এবং কলকাতা উত্তরে ১০৯ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। অন্যান্য জেলাগুলির মধ্যে নদিয়ায় ৩২ জন, হাওড়ায় ৩২ জন এবং হুগলিতে ৪৯ জনকে আটক করা হয়েছে।
পূর্ব বর্ধমানে গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে এক জন জনপ্রতিনিধির নামও রয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ECI) অনুযায়ী, কাউন্সিলর নারু ভগতকেও এই অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ভোটের আগেই কেনো গ্রেপ্তার ?
নির্বাচনের ঠিক আগে এমন ধরপাকড় ও অশান্তির আবহ তৈরি হওয়া নতুন নয়। পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক সংঘর্ষ, বুথ দখল, হুমকি ও মাসল পাওয়ারের অভিযোগ চলে আসছে। ২০১৯, ২০২১, পঞ্চায়েত ভোট থেকে শুরু করে প্রতিটি নির্বাচনেই এর প্রভাব দেখা গেছে। ফলে এই বিধানসভায় বিরোধী দলগুলি, বিশেষত বিজেপি, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও ‘জঙ্গলরাজ’-এর ইস্যুকে সামনে এনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাচ্ছ। এই পরিস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ বজায় রাখতে দ্বিতীয় দফার আগে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে কমিশন।
অন্যদিকে শাসক দল তৃণমূল এই গ্রেপ্তারগুলিকে ‘নির্বাচনী ষড়যন্ত্র’ ও কেন্দ্রীয় এজেন্সির প্রভাব বলে দাবি করেছে। নির্বাচন কমিশনের (ECI) কড়া নজরদারি ও প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট আসলে শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা বলে দাবি করা হলেও শাসক দলের বক্তব্য, এই গ্রেপ্তারগুলি তৃনমূলের কর্মীদের দুর্বল করার জন্য কমিশন ও বিজেপির মিলিত পরিকল্পনা।
এবার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটে আসলে কী হয় সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


