Aaj India desk, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার আগে শহরে ফের ইডির (Enforcement Directorate) হানা। বিরোধীরা বারবার অভিযোগ করে কেন্দ্রীয় সংস্থাটিকে বিজেপি প্রতিহিংসার কাজে লাগায়।এবার কোনো রাজনৈতিক নেতার বাড়িতে হানা না দিলেও বিজেপি-র মানিকতলার প্রার্থী তাপস রায় রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের এক নেত্রীর নাম জড়িয়ে দিলেন।
ঘটনা কি?
সোনা পাপ্পুর মামলায় আনন্দপুরে ব্যবসায়ী কল্যাণ শুক্লা ও আলিপুরে সঞ্জয় কানোরিয়ার বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডির(Enforcement Directorate) একটি দল। এদিন সকালে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে আনন্দপুরের আবাসনে পৌঁছে যান তদন্তকারীরা। দুই ব্যবসায়ীর হোয়াটসঅ্যাপের সূত্র ধরে এই তল্লাশি বলে খবর। তাদের দাবি, “অবৈধ লেনদেনের সূত্র ধরে এবং ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ ঘেঁটে DCP শান্তনু বিশ্বাসের পাশাপাশি দুই ব্যবসায়ী কল্যাণ শুক্লা এবং সঞ্জয় কানোরিয়ার নাম মিলেছে।”
ইডির(Enforcement Directorate) এই তল্লাশির খবর পাওয়া মাত্রই বিজেপি-র মানিকতলার প্রার্থী তাপস রায় দাবি করেন, “শ্রেয়ার হাজব্যান্ড হল কল্যাণ। আমার সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিয়েছিল হাজব্যান্ড বলে। আমি তখন তৃণমূলের জেলা সভাপতি ছিলাম। প্রথম কথা হল, কলকাতা পুলিশ হোক বা সিবিআই অথবা ইডি(Enforcement Directorate), এই শ্রেয়া পান্ডে বা শ্রেয়া পান্ডেদের তো বাইরে থাকার কথা নয়! এই কল্যাণ কিছু দিন আগে পণের মামলায় গ্রেফতার হয়েছিল। খুনের হুমকি দিয়েছিল। নিয়েও ছিল ১০ লক্ষ টাকা। রোজভ্যালি মামলায় নাম রয়েছে, যে মামলায় জেলে ছিল সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং স্বর্গত তাপস পাল। সেই মামলায় ১৮ এবং ১৯ নম্বর আসামি হচ্ছে শ্রেয়া এবং কল্যাণ। এরা বাইরে থাকে কেন? থাকার কথা জেলে, অথচ আছে তৃণমূলে। গ্রেফতারও হয় না, তলবও হয় না, জামিনও নেয় না। নির্বাচনে পর আমি হাইকোর্টে তুলব ।”
শ্রেয়া এই কথার কোনো উত্তর না দিলেও প্রতিবাদ করেছেন তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “এই মামলার পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠে যায়। শ্রেয়া পান্ডে আমাদের মানিকতলার প্রার্থী। শ্রেয়া অবিবাহিত, সিঙ্গল। ফলে এই ধরনের চর্চা,স্বামী, অমুক তমুক, এগুলো অত্যন্ত রুচিবিরুদ্ধ। তৃণমূলের একের পর এক প্রার্থীকে ডাকছে ইডি(Enforcement Directorate)। পাঁচ বছর, ছ’বছর আগের মামলায় ডাকছে। মানুষ বুঝতে পারছেন যে, পাঁচ বছর ধরে যে সময় মামলা ঘুমোচ্ছিল, ভোটের সময় এসে তাদের সমন পাঠাও, ডেকে পাঠাও এবং সেই খবরগুলো খাইয়ে দাও, যাতে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। কোনও ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডি গিয়ে থাকলে, তাঁরা বুঝবেন। সেই নিয়ে কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য করব না।”
ভোটের আগে বারবার করে ইডির(Enforcement Directorate) হানা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই কথা বারবার বলে এসেছে বিরোধীরা। অবিবাহিত শ্রেয়া পান্ডেকে বিবাহিত সাব্যস্ত করে এই মামলার সঙ্গে যুক্ত করাও সেই প্রতিহিংসার অংশ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


