Aaj India Desk, জলপাইগুড়ি : পশ্চিমবঙ্গে SIR এর জেরে নাম বাদ গেছে বহু মানুষের। আনুমানিক ৬০ লক্ষ নাম বিচারাধীন থাকার পরেও ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। কিন্তু বঙ্গবাসী SIR কে নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেও এই SIR এর প্রতিই কৃতজ্ঞ এক জলপাইগুড়ির বাসিন্দা।
পাঁচ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা
জলপাইগুড়ির শিলিগুড়ি মহকুমার অন্তর্গত মাতিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের ২৫/২৩৮ নম্বর বুথে, ফাঁসিদেওয়ার তারাবাড়ি এলাকায় গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট হয়। সেই বুথের বাইরেই বৃহস্পতিবার রোদের মধ্যে পাঁচ ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করেন এক ব্যক্তি। দুপুর প্রায় ২টা নাগাদ এক মহিলা ভোটার স্লিপ ও এপিক কার্ড নিয়ে বুথে আসেন। তখনই ওই ব্যক্তি আচমকা তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, তিনি স্ত্রীর চুল টেনে ধরেন এবং জোর করে ভোটার কার্ড কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্যে মিটমাট
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF)। তারা মহিলাকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটকায়। পরে প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যে নিরাপত্তারক্ষীদের তত্ত্বাবধানে ওই মহিলা নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ওই মহিলা দুই বছর আগে অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। SIR প্রক্রিয়ার জটিলতায় পরবর্তীকালে ভোটার তালিকায় নাম না ওঠার ভয়ে স্ত্রী যে ওই বুথে ভোট দিতে আসবেন সে বিষয়ে প্রায় নিশ্চিত ছিলেন সেই ব্যক্তি। ফলে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে অভিযুক্ত স্বামী দাবি করেন, তাঁর নাম স্ত্রী’র এপিক কার্ড থেকে না মুছে তাঁকে ভোট দিতে দেওয়া উচিত নয়। যদিও নির্বাচনকর্মীরা সেই দাবি মানেননি। ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বুথ এলাকা ছেড়ে চলে যান। এক নির্বাচন আধিকারিক বলেন, “২৬ বছরের নির্বাচনী দায়িত্বে এমন ঘটনা আগে দেখিনি।”
ঘটনাটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতাকে সামনে তুলে ধরেছে। ব্যক্তিগত বিরোধ ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে গেলেও শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ভোটদান প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। নির্বাচন কমিশনের বিধি মেনে প্রত্যেক ভোটারের অধিকার সুরক্ষিত রাখাই যে সর্বাগ্রে, এই ঘটনায় তা স্পষ্ট।


