Aaj lndia Desk, কলকাতা: ভুয়ো ভোট রুখতে এবার আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ভোট কারচুপির অভিযোগ ধরা পড়লেই সরাসরি গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।আগে এ ধরনের ঘটনায় শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ভোটকেন্দ্র থেকে সরিয়ে দেওয়া হত। কিন্তু নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এবার সঙ্গে সঙ্গেই গ্রেফতার করা হবে অভিযুক্তকে।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধানও থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
২৩ এপ্রিল রাজ্যে প্রথম দফার ভোটকে সামনে রেখে আজ সন্ধে ৬টা থেকেই শুরু হচ্ছে সাইলেন্ট পিরিয়ড। সেই সময় থেকেই প্রচার কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে।এর মধ্যেই নির্বাচন কমিশন ভোট প্রক্রিয়া আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। অতীতে ভুয়ো ভোটের ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা থাকলেও, এবার নীতি অনেক বেশি কঠোর। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, ভোট কারচুপির অভিযোগ ধরা পড়লেই সঙ্গে সঙ্গেই গ্রেফতার করা হবে অভিযুক্তকে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধানও থাকতে পারে।
এছাড়া, এবারের ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যবহার আরও জোরদার করতে চাইছে কমিশন। সূত্রের খবর, বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে সম্পূর্ণ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। অন্যদিকে, রাজ্য পুলিশের ভূমিকা সীমিত থাকবে শুধুমাত্র ভোটারদের লাইন নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার কাজে।
এবারের নির্বাচনে নজিরবিহীন আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী, এমনই ইঙ্গিত মিলছে প্রশাসনিক মহলে। ভোটের দিন ঘোষণা হওয়ার আগেই রাজ্যে পৌঁছে গিয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর একাধিক ইউনিট, কলকাতা থেকে শুরু করে জেলাগুলিতে নিয়মিত টহলও দিয়েছে তারা। এরই মধ্যে কাশ্মীর থেকে আনা হয়েছে বুলেটপ্রুফ সাঁজোয়া গাড়ি, যা ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কড়াকড়ি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, পশ্চিমবঙ্গে হিংসামুক্ত ভোট নিশ্চিত করাই এবার কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। সেই বার্তাই আরও জোরালো হয়েছে কলকাতায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর শীর্ষ কর্তাদের বৈঠকে। সেখানে BSF, CRPF, CISF, ITBP সহ একাধিক বাহিনীর ডিজি-রা উপস্থিত ছিলেন। যৌথভাবে কাজের নির্দেশের পাশাপাশি নির্ধারণ করা হয়েছে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP)ও।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দফার ভোটে মোতায়েন থাকবে প্রায় ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী, দ্বিতীয় দফাতেও একই মাত্রার নিরাপত্তা রাখা হবে। শুধু কলকাতাতেই থাকছে প্রায় ২৫০ কোম্পানি। নিয়ম অনুযায়ী, এক সেকশনে থাকবেন ৮ জন জওয়ান।
এছাড়া প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে অন্তত অর্ধেক সেকশন কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখা হচ্ছে, অর্থাৎ ৪ জন জওয়ান। বড় বুথে সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ২ সেকশন পর্যন্ত করা হতে পারে, অর্থাৎ সর্বোচ্চ ১৬ জন পর্যন্ত। পাশাপাশি প্রতি ১০-১২টি বুথের জন্য থাকছে একটি করে কুইক রেসপন্স টিম (QRT), থানা স্তরে মোবাইল রিজার্ভ ফোর্স এবং HRFS ভ্যানও মোতায়েন থাকবে।
কমিশন সূত্রে আরও জানা যাচ্ছে, এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পুলিশের ভূমিকা সীমিত রাখা হচ্ছে মূলত ভোটারদের লাইন নিয়ন্ত্রণ ও সহায়তার কাজে। বুথের ১০০ মিটার এলাকাকে কার্যত কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পৌঁছানোর জন্য জওয়ানদের মোটরবাইকও দেওয়া হচ্ছে। পুরো পরিস্থিতির উপর নজর রাখবেন কেন্দ্রীয় পুলিশ পর্যবেক্ষকরা।


