32 C
Kolkata
Monday, April 20, 2026
spot_img

৫০ হিমঘরের প্রতিশ্রুতি, আলুচাষে নতুন আশার আলো অভিষেক

Aaj India Desk, হুগলি: বাংলার আলুচাষিদের সমস্যার সমাধানে বড় ঘোষণা তৃণমূলের। অভাবী বিক্রি ঠেকাতে রাজ্যে তৈরি করা হবে ৫০টি নতুন হিমঘর। পাশাপাশি, আগামী বিধানসভায় পেশ করা হবে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার আলাদা কৃষি বাজেট। শনিবার পাণ্ডুয়ার কোহিনূর রাইস মিলের মাঠে দলীয় প্রার্থী সমীর চক্রবর্তীর সমর্থনে জনসভা থেকে এই বার্তা দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তিনি বলেন, চলতি বছরে উৎপাদন বেশি হওয়ায় কিছু জায়গায় চাষিরা ন্যায্য দাম পাননি। তবে সরকার তাদের পাশে রয়েছে।চাষিদের আশ্বস্ত করে অভিষেকের বার্তা, ভবিষ্যতে যাতে এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্যই হিমঘর বাড়ানো ও আলাদা কৃষি বাজেটের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) আরও জানান, চলতি বছরে শীত বেশি পড়ায় আলুর ফলন বেড়েছে। আগে যেখানে প্রতি বিঘেতে ৬০ – ৬৫ বস্তা আলু উৎপাদন হতো, সেখানে এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫-১৩০ বস্তায়।তবে সারের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালে এক বস্তা সারের দাম ছিল ১৪৫০ টাকা, যা ২০২৬ সালে বেড়ে হয়েছে ১৮৮০ টাকা। এই দাম নির্ধারণ রাজ্যের হাতে নয়, সম্পূর্ণ কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে এ কথা উল্লেখ করে তিনি নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) সরকারের কাছে সারের দাম কমানোর দাবি জানান।এছাড়াও, নাইলনের বস্তার দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, আগে যে বস্তা ৮ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা ২৪-২৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, এই বস্তা সরবরাহ করছে বিহার, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ ও গুজরাটের সংস্থাগুলি, যেখানে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার রয়েছে।

চাষিদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, উৎপাদন যতই বাড়ুক না কেন, ভবিষ্যতে কোনও কৃষককে আর অভাবী বিক্রির মুখে পড়তে হবে না এটাই তাদের অঙ্গীকার।এর পাশাপাশি রাজ্যের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সরকারের পক্ষ থেকে ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের পাশাপাশি ভূমিহীন কৃষকদের জন্য বছরে ৪ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করা হয়েছে।কেন্দ্রীয় কৃষিনীতি নিয়েও সরব হন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, দিল্লির সরকার কৃষকবিরোধী নীতি গ্রহণ করেছে, যার জেরে আন্দোলন চলাকালীন বহু কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তাই কৃষকদের উন্নয়ন নিয়ে কেন্দ্রের কাছ থেকে শেখার কিছু নেই বলেই মন্তব্য করেন তিনি।

পাণ্ডুয়ার সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশ্বাস মিলতেই নতুন করে আশার আলো দেখছেন জেলার আলুচাষি, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং হিমঘরের মালিকরা। তাঁদের মতে, আলু শুধু একটি ফসল নয় এটি রাজ্যের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। চাষ, সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য মানুষের জীবিকা।

তাঁদের কথায়, দীর্ঘদিনের অভাবী বিক্রির সমস্যা যদি সরকার কার্যকরভাবে রুখতে পারে, তাহলে একদিকে যেমন চাষিরা আবার আগ্রহ নিয়ে আলু চাষে ফিরবেন, তেমনই এই খাতে নতুন বিনিয়োগের পথও খুলে যাবে।

রাজ্যের প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সংগঠন জানিয়েছে, এ বছর পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি। ফলন বেশি হওয়ায় রেকর্ড ৮০ লক্ষ মেট্রিক টন আলু হিমঘরে মজুত করা হয়েছে।

অভাবী বিক্রি ঠেকাতে সরকারও কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রায় ১২ লক্ষ মেট্রিক টন আলু প্রতি কুইন্টাল ৯৫০ টাকা সহায়ক মূল্যে কেনা হয়েছে। এর ফলে চাষিরা গড়ে প্রায় ৭০ বস্তা করে আলু বিক্রি করার সুযোগ পেয়েছেন।

এবার নতুন করে ৫০টি হিমঘর তৈরির ঘোষণাকে ঘিরে আশাবাদী ব্যবসায়ী ও হিমঘর মালিকরা। তাঁদের বিশ্বাস, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে আলু সংরক্ষণ আরও সহজ হবে এবং বাজারে দামের অস্থিরতা অনেকটাই কমবে।

রাজ্যে আলু সংরক্ষণের পরিকাঠামো ইতিমধ্যেই বেশ বড়সড় সূত্রের খবর, মোট প্রায় ৫১৩টি হিমঘর রয়েছে, যার মধ্যে শুধু হুগলিতেই আছে প্রায় ১৪০টি। তবে চাহিদা ও উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মেলাতে নতুন হিমঘরের প্রয়োজনীয়তাও স্পষ্ট। জানা যাচ্ছে, প্রায় তিন লক্ষ প্যাকেট আলু সংরক্ষণ করতে পারে এমন একটি হিমঘর তৈরি করতে খরচ পড়ে ১২ থেকে ১৩ কোটি টাকা।রাজ্য প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক লালু মুখোপাধ্যায়ের কথায়, এই নতুন হিমঘর তৈরির প্রতিশ্রুতি আলু শিল্পে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি জানান, আলু কেন্দ্রিক পুরো একটি ‘চেন সিস্টেম’-এর সঙ্গে বহু মানুষের জীবিকা জড়িয়ে রয়েছে। এ বছর রেকর্ড পরিমাণ আলু হিমঘরে তোলা হয়েছে। সাধারণত মার্চ থেকে আলু মজুত শুরু হয়, মে মাসের মাঝামাঝি থেকে তা বাজারে বেরোতে শুরু করে এবং নভেম্বর–ডিসেম্বরের মধ্যে হিমঘর প্রায় খালি হয়ে যায়। তাই নতুন হিমঘর গড়ে উঠলে বাজার আরও সক্রিয় হবে বলেই মনে করছেন তিনি।

অন্যদিকে, বিদায়ী কৃষি বিপণন দপ্তরের মন্ত্রী বেচারাম মান্না (Becharam Manna) জানান, রাজ্য সরকার বহুদিন ধরেই কৃষকদের পাশে রয়েছে। তাঁর কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-র নেতৃত্বে সরকার ধারাবাহিকভাবে সহায়ক মূল্যে আলু কিনে আসছে। গত কয়েক বছরে আলুর রেকর্ড ফলনের বিষয়টিও সরকারের নজরে ছিল, তাই আগেভাগেই ক্রয় প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

তিনি আরও বলেন, আলুকে শুধু রান্নাঘরের উপকরণ হিসেবে না দেখে, বহুজাতিক সংস্থার মাধ্যমে বৃহত্তর বাজারে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। ফলে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-র ঘোষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আলু চাষ ও বিপণনের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে যেতে পারে।

 

 

 

 

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন