Aaj India Desk, কলকাতা: বিহার বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election) সময় বোরখা বা ঘোমটা পরা মহিলা ভোটারদের পরিচয় যাচাই ঘিরে যে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, এবার সেই একই ইস্যু ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে বাংলায়। সেই সময় এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন (ECI) ও বিজেপি (BJP)-কে একযোগে আক্রমণ করেছিল আরজেডি (RJD)। তবে এবার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে সেই একই ধরনের ব্যবস্থা বাংলাতেও কার্যকর করার ইঙ্গিত দিয়েছে কমিশন। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের বক্তব্য থেকেই সেই দিকটি স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাস্তবে দেখা যায়, ভোটের সময়ে কিছু অসাধু উপায় অবলম্বন করে অনিয়ম করার চেষ্টা হয়। কখনও বোরখা পরে পরিচয় আড়াল করে বুথে প্রবেশের অভিযোগ ওঠে, আবার কখনও মুখ ঢেকে বা ঘোমটা দিয়ে ভিতরে ঢুকে ভোট প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার ঘটনাও সামনে আসে। এই ধরনের পরিস্থিতি রুখতেই এবার আরও কঠোর অবস্থান নিচ্ছে কমিশন। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, এবার ভোটে যদি কোনও মহিলা ভোটার বোরখা বা ঘোমটা পরে আসেন এবং তাঁর পরিচয় নিয়ে সামান্যতম সন্দেহ তৈরি হয়, তাহলে সেই পরিচয় অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে।
এই কাজে বুথে উপস্থিত বিএলওদের সঙ্গে থাকবেন মহিলা কর্মীরাও। সন্দেহজনক ক্ষেত্রে সেই মহিলা আধিকারিকরাই সরাসরি গিয়ে পরিচয় যাচাই করবেন বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ এবার ভোট প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের ফাঁক-ফোকর রাখতেই চাইছে না কমিশন, এমনটাই স্পষ্ট বার্তা।
এছাড়া নিরাপত্তা নিয়েও কঠোর অবস্থানে রয়েছে নির্বাচন কমিশন। আগেই জানানো হয়েছিল, এবারের ভোটে কোনও রকম গাফিলতির সুযোগ থাকবে না। কমিশনের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যের প্রায় সব বুথকেই স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার বুথকে অতি-স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে প্রথম দফার ভোটের ১৫০০টি বুথে। সেখানে বাড়তি নিরাপত্তা ও নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি বুথ জ্যামিং বা বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে একাধিক নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বুথের ভিতরে ও বাইরে থাকবে সিসিটিভি ক্যামেরা, যাতে ভোট প্রক্রিয়ার প্রতিটি মুহূর্ত নজরদারির মধ্যে থাকে।


