32 C
Kolkata
Saturday, April 18, 2026
spot_img

কলমের দাম ৫০০০? ভোটের বাজারে সাংবাদিকদেরও ভাতা দেওয়ার আশ্বাস শমীকের!

Aaj India Desk, কলকাতা : নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর জন্য একের পর এক ভাতা প্রকল্প যখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে, ঠিক তখনই সাংবাদিকদের জন্য আর্থিক ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নতুন বিতর্ক উসকে দিল বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। শনিবার তিনি জানান, দল ক্ষমতায় এলে যোগ্য সাংবাদিকদেরও মাসে মাসে ভাতা দেওয়া হবে।

শনিবার সভা করতে গিয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) ঘোষণা করেন, দল ক্ষমতায় এলে যোগ্য সাংবাদিকদের জন্য এই আর্থিক সহায়তা চালু করা হবে। এর অধীনে মাসে মাসে ৫০০০ টাকা করে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, বর্তমানে অনেক সাংবাদিক প্রতিকূল আর্থিক পরিস্থিতিতে কাজ করছেন। সেই প্রেক্ষিতে তাদের জন্য একটি সামাজিক সুরক্ষা কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “অনেক সাংবাদিক কঠিন অবস্থায় কাজ করছেন। তাদের জন্য আর্থিক নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। আমরা ক্ষমতায় এলে কোনও পক্ষপাত ছাড়াই এই ভাতা প্রদান করা হবে।”

শাসক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

রাজ্য বিজেপি সভাপতির অভিযোগ, বর্তমান শাসক ব্যবস্থায় সুযোগ অনেক ক্ষেত্রেই সীমিত কিছু মানুষের মধ্যে আটকে রয়েছে। তাঁর মতে, বিজেপির প্রস্তাবিত এই প্রকল্প সকল যোগ্য সাংবাদিকের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

উল্লেখ্য, ভারতের একাধিক রাজ্যে ইতিমধ্যেই সাংবাদিকদের জন্য পেনশন বা ভাতা ব্যবস্থা রয়েছে। হরিয়ানায় সাংবাদিকদের মাসিক ১০,০০০ টাকা পেনশন দেওয়া হয়। রাজস্থান ও উত্তরপ্রদেশেও প্রবীণ সাংবাদিকদের জন্য পেনশন প্রকল্প চালু রয়েছে। অসম এবং তামিলনাড়ুতেও সাংবাদিকদের জন্য আর্থিক সহায়তা ও কল্যাণ তহবিলের ব্যবস্থা রয়েছে। সাংবাদিকদের জন্য সরকারি সুবিধা নতুন নয়। অতীতে উত্তরপ্রদেশে প্রবীণ সাংবাদিকদের সরকারি বাসস্থান দেওয়ার নজির রয়েছে। এছাড়া রেলমন্ত্রী থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের জন্য রেল টিকিটে ৫০ শতাংশ ছাড় চালু করেছিলেন, যার সুবিধা তাদের পরিবারও পেত।

সাংবাদিকদের সমর্থন আদায়ের প্রচেষ্টা

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণা নির্বাচনের আগে একটি নির্দিষ্ট পেশাজীবী গোষ্ঠীর সমর্থন অর্জনের কৌশল হতে পারে। যেমন আগে বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের মাধ্যমে ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলার চেষ্টা দেখা গিয়েছে, তেমনই এবার সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) এই প্রসঙ্গে বলেন, “মমতা ব্যানার্জি শুধু দলীয় সরকার চালিয়েছেন, সর্বজনীন সরকার গড়তে পারেননি।” তাঁর এই মন্তব্যও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে।

সাংবাদিক সমাজে বিভাজনের অভিযোগ

গত এক দশকে জাতীয় ও রাজ্য স্তরে সংবাদমাধ্যমের নিরপেক্ষতা নিয়ে নানা বিতর্ক সামনে এসেছে। ‘গোদি মিডিয়া’ বা ‘বিক্রিত মিডিয়া’-র মতো শব্দ ব্যবহার করে সাংবাদিকদের একাংশকে চিহ্নিত করার প্রবণতাও বেড়েছে। এর ফলে সাংবাদিক মহলের মধ্যেই বিভাজন তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

সব মিলিয়ে, সাংবাদিকদের জন্য আর্থিক ভাতার এই প্রতিশ্রুতি নির্বাচন-পূর্ব রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একদিকে এটি সামাজিক সুরক্ষার প্রশ্নকে সামনে আনছে, অন্যদিকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভোটের ফলাফল যা-ই হোক, এই ঘোষণা যে রাজনৈতিক কৌশল এবং পেশাগত নীতির সংযোগস্থলে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক তৈরি করেছে তা স্পষ্ট।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন