Aaj India Desk, উত্তর ২৪ পরগণা : প্রথম দফার ভোট শুরু হতে বেশিদিন বাকি নেই। নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আবহে উত্তাপ বাড়ছে। প্রচার, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ, এবং বিভিন্ন বিতর্ক ঘিরে রাজ্যের একাধিক কেন্দ্রে চাপানউতোর তীব্র হচ্ছে। এবার উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরেও (Barrackpore) সেই বিতর্কের ছোঁয়া লেগেছে।
শনিবার ব্যারাকপুরে (Barrackpore) ঘরে ঘরে প্রচার করছিলেন বিজেপি প্রার্থী কৌস্তভ বাগচি। তাঁর বিরুদ্ধেই এক মহিলা ভোটারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী মহিলার দাবি, প্রার্থী তাঁর বাড়িতে এসে জানতে চান তিনি কাকে ভোট দেবেন। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থনের কথা জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। মহিলার অভিযোগ, এরপরই তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর তাঁকে “দেখে নেওয়া হবে” বলে শাসানো হয়। ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে তিনি সরাসরি টিটাগড় থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ অস্বীকার বিজেপি প্রার্থীর
তবে এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে কৌস্তভ বাগচি বলেন, “এগুলি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি প্রচারে গিয়েছিলাম, তাঁকে আমাদের ভোট দিতে বলেছি। তিনি তৃণমূলের বিভিন্ন প্রকল্পের কথা বলছিলেন। আমি বলেছি, যাকে খুশি ভোট দিন। তবে কেউ বাড়িতে এলে তার সঙ্গে অসভ্যতা করা উচিত নয়।” পাশাপাশি তিনি ব্যারাকপুরের (Barrackpore) তৃণমূল প্রার্থী রাজ চক্রবর্তীকেও আক্রমণ করে বলেন, “তিনি বুঝতে পেরেছেন যে হারবেন, তাই এই ধরনের ইস্যু তোলার চেষ্টা করছেন।”
পাল্টা জবাব তৃনমূলের
অন্যদিকে রাজ চক্রবর্তী এই প্রসঙ্গে বলেন, “দেখা, কাটা, মারার রাজনীতি বাংলার সংস্কৃতি নয়। এই ধরনের কাজ করে লাভ হবে না। মানুষ ২৯ এপ্রিল ভোটে সব কিছুর জবাব দেবে।”
নির্বাচনের আবহে শুধু একটি নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শাসক তৃণমূল ও বিরোধী বিজেপি উভয় শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ বারবার সামনে আসছে। কোথাও ভোটারকে ভয় দেখানো, কোথাও চাপ সৃষ্টি, আবার কোথাও আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই ধারাবাহিক অভিযোগ রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও নেতৃত্বের মান নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলছে। যাঁরা ভোটের আগে এমন আচরণের অভিযোগে জড়াচ্ছেন, তাঁরা সত্যিই জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারবেন কিনা তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে রয়েছে সংশয়। তবে এই প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর নির্ভর করছে প্রমাণ, তদন্ত এবং শেষ পর্যন্ত ভোটারদের বিচারের উপর, যা নির্ধারিত হবে ব্যালট বাক্সেই।


