Aaj India Desk, কলকাতা: কিছুদিন আগেই রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে তাঁর মেয়াদ শেষ হয়েছে। আর সেই মেয়াদ ফুরোতেই বড় সিদ্ধান্ত নিলেন সিপিএম (CPM) নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য (Vikasranjan Bhattacharya)। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে যে পেনশন পাওয়ার কথা, তা তিনি গ্রহণ করবেন না। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার মহাসচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়ে নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন সদ্য প্রাক্তন সাংসদ বিকাশরঞ্জন।
২০২০ সালের ৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। চলতি বছরের ২ এপ্রিল শেষ হয়েছে তাঁর সাংসদ পদে মেয়াদ। সম্প্রতি বাংলার পাঁচটি রাজ্যসভা আসনে নির্বাচন হলেও, বিধায়কদের সংখ্যার অঙ্কে বামেদের কোনও প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ ছিল না। ফলে তৃণমূলের চার প্রার্থী এবং বিজেপির একজন প্রার্থী রাজ্যসভায় গিয়েছেন।
তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করেছিল সিপিএম। এবার যাদবপুর কেন্দ্র থেকে লড়ছেন তিনি। ইতিমধ্যেই সেখানে জোরদার প্রচার শুরু করেছেন। বাম শিবিরের দাবি, যাদবপুরে তাঁকে ঘিরে জয়ের সম্ভাবনা বাড়ছে।
এই আবহেই রাজ্যসভার প্রাক্তন সদস্য হিসেবে পেনশন না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন পেশায় আইনজীবী বিকাশরঞ্জন। মহাসচিবকে পাঠানো চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, একজন সাবেক সাংসদ হিসেবে যে পেনশন প্রাপ্য, তা তিনি নিতে চান না।এটাই প্রথম নয়। অতীতেও সরকারি পদে থেকে আর্থিক সুবিধা ছেড়ে দেওয়ার নজির রয়েছে তাঁর। কলকাতা পুরনিগমের মেয়র থাকাকালীনও কোনও সম্মানী নেননি তিনি। ২০০৫ সালের ৫ জুলাই থেকে ২০১০ সালের ১৬ জুন পর্যন্ত কলকাতার মেয়র পদে ছিলেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য।
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি দেশের পরিচিত আইনজীবীদের একজন। বর্তমানে ৭৪ বছর বয়সে আবারও নির্বাচনী ময়দানে নেমেছেন তিনি। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটেও যাদবপুর কেন্দ্র থেকে সিপিএম প্রার্থী হয়েছিলেন, যদিও সে সময় তৃণমূল প্রার্থী মিমি চক্রবর্তীর কাছে পরাজিত হন। এবার বিধানসভা ভোটে তিনি কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন, তার উত্তর মিলবে ৪ মে ফল ঘোষণার দিন।


