29 C
Kolkata
Thursday, April 16, 2026
spot_img

ভোটের প্রস্তুতিতে উঠে এলো সরকারি স্কুলের বাস্তবতা ! ১০০টির বেশি বুথ বিদ্যুৎহীন — কী বলল কমিশন ? ইয়া

Aaj India Desk, কলকাতা : ভোটের (Election) আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। শহর জুড়ে প্রচারের তাপ বাড়ছে, দেওয়াল লিখনে ঢেকে যাচ্ছে পাড়া-মহল্লা। এই ব্যস্ততার মাঝেই নীরবে সামনে এল এক অস্বস্তিকর ছবি, কলকাতার শতাধিক ভোটকেন্দ্রে এখনও নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। এই তথ্য সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে নির্বাচন কমিশন।

কেনো সমস্যা হবে ভোটগ্রহণে ? 

নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কলকাতার ১০০-র বেশি বুথে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। এর মধ্যে ৫০টিরও বেশি বুথ বন্দর এলাকায় অবস্থিত। বুথে বিদ্যুৎ না থাকলে বাধার মুখে পড়তে পারে স্বচ্ছ ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি বুথে ওয়েবকাস্টিং বাধ্যতামূলক। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকলে সেই পরিষেবা চালানো সম্ভব নয়। ফলে ভোটের (Election) স্বচ্ছতা ও নজরদারি নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। পাশাপাশি ভোটের দিন বুথের জানালা ও অতিরিক্ত দরজা বন্ধ রাখার নিয়ম রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকলে বুথের ভিতরে পর্যাপ্ত আলো না থাকায় ভোটগ্রহণে সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিষয়টি সামনে আসতেই জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের কাছে দ্রুত রিপোর্ট চেয়ে সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন

রাজ্যে ভোটগ্রহণের জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সরকারি স্কুল ভবনকেই বুথ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সেই কারণেই এই ঘটনাটি শুধু নির্বাচন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নয়, বরং বৃহত্তর পরিকাঠামোগত সমস্যার দিকেও আঙুল তুলছে। যে স্কুলগুলিতে বছরের পর বছর পড়াশোনা চলছে, সেখানেই যদি দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকে সেই পরিবেশে পড়ুয়াদের দৈনন্দিন পড়াশোনা কীভাবে চলছে তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় যেখানে বিদ্যুৎ একটি মৌলিক প্রয়োজন, সেখানে এই ঘাটতি শিক্ষার মান ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।

এই প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, স্কুলগুলিতে বিদ্যুৎ সংযোগ বজায় রাখা সম্পূর্ণরূপে রাজ্য সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে এই মৌলিক পরিষেবার রক্ষণাবেক্ষণে ঘাটতি থাকার ফলেই আজ ভোটের মুখে এসে এই সমস্যা প্রকট হয়ে উঠেছে। ফলে বিষয়টি এখন আর শুধুমাত্র ভোট পরিচালনার সীমাবদ্ধতায় আটকে নেই, বরং রাজ্যের শিক্ষাপরিকাঠামোর সামগ্রিক চিত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।

বিকল্প ব্যবস্থার ভাবনা

এই পরিস্থিতিতে কমিশন জানিয়েছে, যেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই সেখানে অস্থায়ী সংযোগ দেওয়া হবে। প্রয়োজনে জেনারেটর বসানোর কথাও বলা হয়েছে, যাতে ভোট প্রক্রিয়া ব্যাহত না হয়। পাশাপাশি পানীয় জল ও শৌচালয়ের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, ভোটের (Election) ঠিক আগে এই বিদ্যুৎহীন বুথের ছবি শুধু নির্বাচন ব্যবস্থার প্রস্তুতি নিয়েই নয়, প্রশাসনিক পরিকাঠামোর বাস্তব অবস্থাও সামনে এনে দিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিকল্প ব্যবস্থা করে মসৃণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা এখন প্রশাসনের বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে এই ঘটনা ভবিষ্যতে স্কুল ও জনপরিষেবার মৌলিক পরিকাঠামো নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার দিকেও স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন