30 C
Kolkata
Wednesday, April 15, 2026
spot_img

পয়লা বৈশাখেও চলছে ‘মৎস্য রাজনীতি’: তৃণমূল-বিজেপির প্রচারে উত্তপ্ত বাংলা !

Aaj India Desk, কলকাতা : পয়লা বৈশাখের দিনেও রাজ্যে থামেনি রাজনৈতিক প্রচার। আগে থেকেই মাছ ও বাঙালি খাদ্যসংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) ও বিজেপির মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ ও প্রতীকী প্রচার চলছিল। এবার বাংলা নববর্ষেও দেখা গেলো সেই মৎস্যপ্রীতি নিয়ে রাজনৈতিক বাকবিতণ্ডা। একদিকে ‘বাঙালি-বিরোধী’ তকমা দিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ করছে তৃনমূল, অন্যদিকে মাছ হাতে সেই আক্রমণ খণ্ডনে মরিয়া বিজেপি।

ইলিশে ইমোশন, রুইয়ে রণ 

নতুন বছরের সকালে কলকাতা-সহ বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি ও তৃণমূল (TMC) নেতাদের দেখা যায় ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচিতে। কলকাতা বন্দর এলাকার বিজেপি নেতা রাকেশ সিং মাছ হাতে নিয়ে প্রচারে নামেন। তাঁর বক্তব্য, “মাছ মানেই বাংলা, বাংলা মানেই মাছ। বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাছ নিয়েই উৎসব হবে।” তবে বিজেপি সূত্রের দাবি, কেন্দ্রের নির্দেশেই রাজ্য নেতৃত্বকে বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করে দেখানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তাই কোথাও মাছ বাজারে গিয়ে প্রচার, কোথাও মাছ খেতে খেতে সাক্ষাৎকার, এই ধরনের কর্মসূচি দেখা যাচ্ছে। বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদারও বিভিন্ন সভায় মাছের প্রতি নিজের পছন্দের কথা উল্লেখ করছেন।

অন্যদিকে তৃণমূল (TMC) প্রার্থী অরূপ বিশ্বাস আজ টালিগঞ্জে রুই মাছ নিয়ে মিছিল করেন। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি শাসিত রাজ্যে মাছ বিক্রি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বেরও দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ হতে পারে। একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই ইস্যুতে সরব হয়ে অভিযোগ তুলেছেন যে বিজেপি বাঙালির মাছ-মাংস খাওয়ার সংস্কৃতির বিরোধী।

তৃনমূলের অভিযোগ নাকচ বিজেপির

তবে এর জবাবে ভোটের আগে বিজেপি নেতৃত্বও স্পষ্ট করেছে, তারা খাদ্যাভ্যাসে কোনও বাধা দিতে চায় না। কেন্দ্রীয় নেত্রী স্মৃতি ইরানি কলকাতার এক অনুষ্ঠানে বলেন, “আমরা মাছ-মাংস খাওয়ার বিরুদ্ধে নই।”

বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে সাংস্কৃতিক পরিচয় ও খাদ্যাভ্যাসকে রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে সামনে আনা নতুন নয়। মাছ বাঙালির খাদ্যাভ্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তাই এই বিষয়টিকে সামনে এনে রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের ‘বাঙালি স্বার্থরক্ষক’ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। তৃণমূল কংগ্রেস যেখানে বিজেপিকে ‘বাঙালি-বিরোধী’ হিসেবে চিত্রিত করতে এই ইস্যু ব্যবহার করছে, সেখানে বিজেপি পাল্টা নিজেদের বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত দেখাতে মাছকেই প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করছে। ফলে উন্নয়ন বা দুর্নীতির প্রশ্নের বদলে এমন আবেগঘন ইস্যুতে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পয়লা বৈশাখের মতো আবেগঘন দিনে এই ‘মাছ রাজনীতি’ আরও বেশি করে নজর কেড়েছে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন