Aaj India Desk, কলকাতা: বিধানসভা ভোট যত কাছে আসছে, ততই কোন দল কত আসন পেতে পারে তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। রাজ্যে সরকার গড়ার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী শাসক তৃণমূল (TMC) এবং বিরোধী বিজেপি(BJP)-দু’পক্ষই নিজেদের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। এই পরিস্থিতিতে দলের নেতাদের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি (Abhishek Banerjee) বলেন, এই নির্বাচনে তৃণমূল ২৩০টি আসন জিতবে। সেই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, “কেউ কাজের জায়গা ছেড়ে যাবেন না।”
আগামী কয়েকদিন সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে রাজ্য সরকারের কাজকর্ম তুলে ধরার নির্দেশও দেন তিনি। আর মাত্র ৮ দিন পর শুরু হচ্ছে প্রথম দফার ভোট। ২৩ এপ্রিল রাজ্যের ১৫২টি আসনে ভোট নেওয়া হবে। তার আগে মঙ্গলবার এই অনলাইন বৈঠকে অংশ নেন দলের প্রার্থী, বিভিন্ন পুরসভার মেয়র ও ডেপুটি মেয়র, সাংসদ, জেলা পরিষদের সদস্য, পঞ্চায়েত প্রধান ও উপপ্রধান এবং বিভিন্ন নির্বাচনী কমিটির সদস্যরা। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রায় ৩০ হাজার তৃণমূল কর্মী-নেতা এই বৈঠকে যুক্ত ছিলেন।
এই বৈঠক থেকেই বিজেপিকে আক্রমণ করেন অভিষেক। তিনি বলেন, “মানুষকে বোঝান, বিজেপি একটা কল বসাতেও বলবে দিল্লির অনুমতি নিই।” এই কথাই মানুষের সামনে তুলে ধরতে বলেন তিনি।তিনি আরও বলেন, তৃণমূল সরকারের যে সব প্রকল্পে মানুষ উপকৃত হয়েছেন, সেই তালিকা নিয়ে ঘরে ঘরে যেতে হবে। মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হবে এবং তাঁদের মতামত মন দিয়ে শুনতে হবে। তাঁর কথায়, “মানুষ কিছু বললে তর্ক না করে শুনুন, দরকার হলে তাঁদের কাছে ক্ষমাও চাইতে পারেন-যেমন আমরা ঈশ্বরের কাছেও ক্ষমা চাই।”
দলের কর্মীদের উৎসাহ দিতে তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) আবারও সরকার গড়বেন। জয়ের ব্যবধান আরও বাড়াতে হবে। সম্মান দিয়ে মানুষের কাছে যান, প্রচার আরও বাড়ান। কেউ এই জয় আটকাতে পারবে না। আপনারা আত্মবিশ্বাসী থাকলে ফল আরও ভালো হবে,”-এমনই বার্তা দেন তিনি। এরপর আবারও তিনি জোর দিয়ে বলেন, “কেউ পিছু হটবেন না, তৃণমূল ২৩০টি আসন পাবে।”
এসআইআর (SIR) তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে বিজেপির অভিযোগেরও জবাব দেন অভিষেক। তিনি বলেন, বিজেপি বলছে ২৭ লক্ষ মানুষের নাম কাটা গেছে, তাই তৃণমূল হারবে। এর উত্তরে তিনি বলেন, “মানুষকে বুঝিয়ে বলুন-২৭ লক্ষ নাম বাদ গেলেও প্রায় ৫০ লক্ষ নতুন মানুষ তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।” শেষে তিনি আরও বলেন, এত কিছুর পরেও যদি পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি হেরে যায়, তাহলে দেশের রাজনীতিতে বাংলার গুরুত্ব অনেক বেড়ে যাবে। তাঁর কথায়, “বিজেপি হারলে দিল্লির রাজনীতিতে বাংলার প্রভাব দেখা যাবে।”


