Aaj India Desk,দক্ষিণ দিনাজপুর : উত্তরবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-কে সামনে রেখে দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরে জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গোর্খা (Gorkha) সমস্যার স্থায়ী সাংবিধানিক সমাধানের আশ্বাস দিলেন। তিনি স্পষ্ট করেন, পশ্চিমবঙ্গকে অখণ্ড রেখেই এই সমাধান করা হবে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের জন্য একাধিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিকাঠামো প্রকল্পের প্রতিশ্রুতিও দেন।
গোর্খা সমস্যা নিয়ে কেন্দ্রের অবস্থান
দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ের রাজনীতিতে গোর্খাল্যান্ড ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিরোধীরা বারবার বিজেপির বিরুদ্ধে বাংলা ভাগের অভিযোগ তুলেছে। সেই প্রেক্ষিতে শাহ বলেন, “গোর্খা (Gorkha) সমস্যার সাংবিধানিক সমাধান হবে, কিন্তু বাংলা ভাগ হবে না।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বার্তা পাহাড় ও সমতল দুই অঞ্চলের ভোটারদের আশ্বস্ত করার কৌশল।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় জোর
উত্তরবঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ AIIMS গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন শাহ। পাশাপাশি ৬০০ শয্যার আধুনিক ক্যান্সার হাসপাতাল তৈরির কথাও বলেন। উচ্চশিক্ষার জন্য IIT ও IIM স্থাপনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। এছাড়া আদিবাসীদের জন্য আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি তৈরির কথাও ঘোষণা করেন। দার্জিলিং থেকে সুন্দরবন পর্যন্ত একটি বড়সড় হাইওয়ে তৈরির পরিকল্পনার কথা জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের চারটি শহরকে উন্নত করে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। একইসঙ্গে রাজবংশী ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও পূরণের আশ্বাস দেন।
গোর্খা ভোটব্যাঙ্ক টানতে নির্বাচনী কৌশল
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপি আজকের বক্তব্যের মাধ্যমে গোর্খা (Gorkha) ভোটব্যাঙ্ককে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছে যে তাদের দাবি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হচ্ছে না, আবার অন্যদিকে সমতলের বাঙালি ভোটারদেরও স্পষ্ট বার্তা দিয়ে আশ্বস্ত করতে চাইছে যে বাংলা অখণ্ড থাকবে। তবে এই অবস্থান যদি গোর্খাদের কাছে অস্পষ্ট বা অপর্যাপ্ত মনে হয়, তাহলে দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ না হওয়ায় তারা বিজেপির প্রতি আস্থা হারাতে পারে এবং ভোটব্যাঙ্ক থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। একই সঙ্গে এটি রাজনীতির নতুন চালও হতে পারে বলে বিরোধীদের ধারণা। তবে দুই অঞ্চলের ভোটারদের মধ্যে সাময়িক আস্থা তৈরি করে নির্বাচনী লাভ নিশ্চিত করার বিজেপির এই কৌশলের সাফল্য নির্ভর করবে এর বাস্তবায়নের ওপরই।


