30 C
Kolkata
Monday, April 13, 2026
spot_img

“প্রধানমন্ত্রী পদ ছেড়ে দিন” : মোদীকে ‘বহিরাগত’ তকমায় আক্রমণ মমতার !

Aaj India Desk, বীরভূম : বিধানসভা ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই তীব্র হচ্ছে কথার লড়াই। তারই মধ্যে বীরভূমের সিউড়ির সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) মন্তব্যকে হাতিয়ার করে সরাসরি পাল্টা আক্রমণ শানালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মোদীর মন্তব্যে কড়া খোঁচা মমতার

বীরভূমের সিউড়ির সভা থেকে মমতা বলেন, “মোদীজি বলছেন তিনি ২৯৪ আসনের প্রার্থী। তাহলে প্রধানমন্ত্রী পদ ছেড়ে দিন, বলুন আমি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হব।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “আগে ঠিক করুন, আপনি দেশের প্রধানমন্ত্রী থাকতে চান, না বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হতে চান।”

সাথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, “আপনি বাংলাতে বহিরাগত। আগে দিল্লি সামলান, তারপর বাংলার কথা ভাবুন।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে বহিরাগত প্রসঙ্গকে আবারও সামনে আনেন।

‘মন কি বাত’ ইস্যুতে সমালোচনা

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) ‘মন কি বাত’ কর্মসূচি নিয়েও কটাক্ষ করেন মমতা। তাঁর মন্তব্য, “শিশুদের সঙ্গে কথা বলার নামে তাদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।” এছাড়া NRC ও ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট কেটে দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।

কর্মসংস্থান নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন

প্রধানমন্ত্রীর কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি নিয়েও তীব্র আক্রমণ শানান তৃণমূল নেত্রী। তাঁর বক্তব্য, “দুই কোটি চাকরির কথা বলা হয়েছিল। এতদিনে সেই চাকরি কোথায়? মানুষ সেই উত্তর চায়।” তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে রেল ও সেনাবাহিনীতে বহু গুরুত্বপূর্ণ পদ ফাঁকা পড়ে থাকলেও নিয়োগ প্রক্রিয়া যথেষ্ট গতিশীল নয়। এর ফলে বিপুল সংখ্যক চাকরিপ্রার্থীর মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাঁর।

একইসঙ্গে রাজ্যে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়েও কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, যখনই রাজ্য সরকার শূন্যপদ পূরণের উদ্যোগ নিচ্ছে, তখনই আইনি জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে, যার ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়া বারবার আটকে যাচ্ছে। এতে সাধারণ চাকরিপ্রার্থীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে তিনি দাবি করেন।

ভোটের মুখে এই ধরনের মন্তব্য যে কেবল রাজনৈতিক তরজাকেই আরও তীব্র করছে, তা বলাই বাহুল্য। “বহিরাগত” ইস্যু থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী পদ ছাড়ার আহ্বানে স্পষ্ট যে এই লড়াই কেবল উন্নয়ন বা প্রতিশ্রুতির নয়, বরং রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রভাব প্রতিষ্ঠারও যুদ্ধ। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) বক্তব্য ঘিরে বিজেপিও পাল্টা আক্রমণের পথে হাঁটতে পারে বলেই ইঙ্গিত মিলছে। ফলে বঙ্গ ভোটের ময়দান ক্রমেই পরিণত হচ্ছে তীব্র বাক্যযুদ্ধের কেন্দ্রে, যেখানে প্রতিটি মন্তব্যই হয়ে উঠছে রাজনৈতিক বার্তা ও কৌশলের অংশ। শেষ পর্যন্ত এই শব্দযুদ্ধ কতটা প্রভাব ফেলবে ভোটারদের উপর, সেটাই এখন দেখার।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন