Aaj India Desk, বীরভূম : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শাসক ও বিরোধী শিবিরের জোরদার প্রচারের মাঝে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের (Yogi Adityanath) ‘বুলডোজার নীতি’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে সেই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই সোমবার পালটা জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
যোগীর ভাষণে তৃণমূলকে নিশানা
রবিবার প্রথমবার বাংলায় প্রচারে এসে যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) একাধিক ইস্যুতে তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করেন। তিনি ফিরহাদ হাকিমের উর্দু সংক্রান্ত মন্তব্য থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। একইসঙ্গে উত্তরপ্রদেশের মতো ‘বুলডোজার নীতি’ বাংলায় প্রয়োগের ইঙ্গিতও দেন।
উল্লেখ্য, সাধারণ মানুষের কথোপকথন থেকে শুরু করে রাস্তাঘাটের প্রচার সব জায়গাতেই তাঁর ‘বুলডোজার’ ইমেজকে সামনে আনছে বিজেপি। উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুর, এন্টালি বা শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যোগীর ছবি ও বুলডোজারের প্রতীক নিয়ে পোস্টার-হোর্ডিং দেখা যাচ্ছে। এমনকি মনোনয়ন জমা দিতে গিয়েও বিজেপি কর্মীদের বুলডোজারে চড়ে যেতে দেখা গিয়েছে, যা এই প্রতীকের রাজনৈতিক বার্তাকে আরও জোরালো করছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কঠোর প্রশাসনের প্রতীক হিসেবে যোগী আদিত্যনাথকে (Yogi Adityanath) সামনে এনে ভোটের আগে জনমনে একটি নির্দিষ্ট বার্তা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে বিজেপি।
২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা জবাব
তবে সোমবার সিউড়িতে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যোগীর মন্তব্যের কড়া জবাব দেন। তিনি বলেন, “উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী বাংলায় এসে বলছেন এখানে বুলডোজার চালানো হবে। আমরা সেই নীতিতে বিশ্বাস করি না, আমরা ভালোবাসার নীতিতে বিশ্বাস করি।”
পাশাপাশি বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী ভোটারদের সতর্ক করে বলেন, “বিজেপির কাছ থেকে টাকা নেবেন না। তারা অ্যাকাউন্ট খুলে টাকা দেবে বলে প্রলোভন দেখায়, পরে ইডি-সিবিআই দিয়ে মামলা করে।”
বঙ্গে ভোটে বাড়ছে বাকযুদ্ধের ঝাঁজ
সব মিলিয়ে, মমতা ব্যানার্জির ‘ভালোবাসার নীতি’ তুলে ধরা পাল্টা বার্তা বিজেপির ‘কঠোর প্রশাসন’ ও বুলডোজার ইমেজের বিপরীতে একটি ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করছে। তবে এই বার্তা কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে ভোটারদের অগ্রাধিকার ও স্থানীয় ইস্যুর ওপর। আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির প্রশ্নে বিজেপি যে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে, তার মোকাবিলায় মমতার এই নরম সুর কতটা প্রভাব ফেলবে, তা স্পষ্ট হবে ভোটের ফলেই। রাজনৈতিক মহলের মতে, শেষ পর্যন্ত জনমতের ভারসাম্যই ঠিক করবে কোন বয়ান বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে।


