Aaj India Desk, কলকাতা: গুণমান পরীক্ষায় একের পর এক ধরা পড়ছে নিম্নমানের চিকিৎসা সামগ্রী ও ওষুধ। ফরিদাবাদে তৈরি এক সংস্থার হাইপোডারমিক সূচ স্টেরিলিটি পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। কলকাতার কেন্দ্রীয় ড্রাগ ল্যাবের পরীক্ষাতেও একই সূচ ‘ফেল’ করেছে। একইভাবে হিমাচল প্রদেশে উৎপাদিত একটি নামী সংস্থার তুলো গুণমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি।অন্যদিকে, গুয়াহাটির কেন্দ্রীয় ড্রাগ ল্যাবে হরিয়ানার একটি কোম্পানির তৈরি বেলুন ক্যাথিটার ব্যাকটেরিয়াল এনডোটক্সিন পরীক্ষায় ‘ফেল ‘ হয়েছে। কেরলের রাজ্য ড্রাগ ল্যাবেও একই ধরনের তুলো মান পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে।
শুধু চিকিৎসা সরঞ্জামই নয়, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ২১ ধরনের প্যারাসিটামল ও প্যারাসিটামল -ভিত্তিক কম্বিনেশন ওষুধও মান পরীক্ষায় ‘ফেল’ করেছে। স্বাস্থ্য দফতর ইতিমধ্যেই এসব নিম্নমানের ওষুধের ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ জারি করেছে।চিকিৎসা ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে ফের উদ্বেগ বাড়ল গুণমান পরীক্ষায় একের পর এক চিকিৎসা সামগ্রী ‘ফেল’ হওয়ায়। গজ, তুলো, সূচ ও ক্যাথিটারের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল সামগ্রী মান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি বলে ড্রাগ কন্ট্রোলের রিপোর্টে উঠে এসেছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, একাধিক রাজ্যের পরীক্ষাগারে বিভিন্ন নমুনা ব্যর্থ হয়েছে
১) হিমাচল প্রদেশে তৈরি একটি নামী ভারতীয় সংস্থার তুলো কলকাতার কেন্দ্রীয় ড্রাগ ল্যাবে গুণমান পরীক্ষায় ফেল করেছে।
২) হরিয়ানার একটি সংস্থার তৈরি বেলুন ক্যাথিটার গুয়াহাটির কেন্দ্রীয় ড্রাগ ল্যাবে ব্যাকটেরিয়াল এন্ডোটক্সিন পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হয়েছে।
৩) ফরিদাবাদের একটি সংস্থার তৈরি হাইপোডারমিক সূচ কলকাতার কেন্দ্রীয় ড্রাগ ল্যাবে স্টেরিলিটি টেস্টে ফেল করেছে।
৪) একইভাবে হিমাচলের একটি সংস্থার সূচ তিরুবনন্তপুরমের রাজ্য ড্রাগ ল্যাবে ক্লিনলিনেস পরীক্ষায় মান বজায় রাখতে পারেনি।
৫) কেরলের রাজ্য ড্রাগ ল্যাবে হরিয়ানার একটি সংস্থার তৈরি তুলোও গুণমান পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে।
এই রিপোর্ট সামনে আসতেই চিকিৎসক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ দৈনন্দিন চিকিৎসায় ব্যবহৃত এসব সামগ্রীর মান নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।
চলতি মাসের ড্রাগ কন্ট্রোল রিপোর্টে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী গুণমান পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে চিকিৎসক মহলে। উচ্চ রক্তচাপ থেকে শুরু করে সংক্রমণ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের একটি বড় অংশই মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে পারেনি বলে জানা গেছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ব্যর্থ ওষুধের তালিকায় রয়েছে
১) টেলমিসার্টন গ্রুপের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ১৯টি ওষুধ, যা উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, কিডনি ও স্নায়ুর সমস্যায় ব্যবহার করা হয়।
২) প্যারাসিটামল ও তার বিভিন্ন কম্বিনেশনের অন্তত ২১টি ব্র্যান্ড, যা সাধারণ জ্বর-ব্যথার চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত।
৩) রিঙ্গার ল্যাক্টেট ও সাধারণ স্যালাইনের অন্তত ৪টি বিভিন্ন ফর্মুলেশন, যা রোগীর শরীরে তরল ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।
৪) পাশাপাশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রায় ২০ ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক ট্যাবলেট ও ইনজেকশনও মান পরীক্ষায় ফেল করেছে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যাজিথ্রোমাইসিন, অ্যামোক্সিসিলিন-সালবাকটাম কম্বিনেশন, ডক্সিসাইক্লিন, জেন্টামাইসিন ও অ্যামিকাসিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ।
চলতি রিপোর্টে মোট ১৯৮টি ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীকে নিম্নমানের হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এরপরই স্বাস্থ্য দফতর কড়া পদক্ষেপ নিয়ে এই সব ওষুধের ব্যবহার ও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে হাসপাতাল, ওষুধ বিক্রেতা ও হোলসেলারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এই ব্যাচের ওষুধ অবিলম্বে স্টক থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে এবং কোনোভাবেই বাজারজাত বা ব্যবহার করা যাবে না। সাপ্লাই চেইন থেকেও দ্রুত এগুলি প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


