কলকাতা: বাড়ছে বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপ। ছাব্বিশের ভোটে বাংলা দখলের লক্ষ্যে পরপর জনসভা করছেন নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ (Amit Shah)। এমনকি ভোটের সময় ১৫ দিন পশ্চিমবঙ্গেই থাকবেন বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। শুক্রবার নিউটাউনের হোটেলে বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশের পর শনিতে ফের প্রচারের ময়দানে নেমে পড়েন অমিত শাহ।
এদিন বনগাঁ, ছাতনা ও পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডিতে জনসভা করেছেন তিনি। একই দিনে তিন জনসভা থেকেই তৃণমূল সরকারকে আগামী নির্বাচনে সমূলে উৎপাটিত করার বার্তা দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ভোটের সময় বুথ দখল, রিগিং নিয়েও তৃণমূলকে কড়া হুঁশিয়ারি দেন শাহ (Amit Shah)। জনসভা থেকে হুংকার দিয়ে তিনি বলেন, “কোনো TMC গুন্ডা যদি কোনো বিজেপি কর্মীকে হেনস্থা করে, তবে তাদের হিসাব নেওয়া হবে।”
X Link: https://x.com/AmitShah/status/2042937185326756196
আক্রমণের সুর আরও চড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ভোটের দিন গুন্ডাদের বাড়িতে থাকা উচিত, নইলে তারা বিপদে পড়বে।” শাহ দাবি করেন, অতীতে ভোটের সময়ে বিরোধী দলের কর্মীদের উপর হামলা, ভয় দেখানো এবং ভোট প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এই প্রেক্ষিতে তিনি তৃণমূলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি কোনো বিজেপি কর্মীকে হেনস্থা করা হয়, তাহলে তার ‘হিসাব নেওয়া হবে’।
তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল যে, দলীয় কর্মীদের সুরক্ষার প্রশ্নে তিনি আপস করতে রাজি নন। সব মিলিয়ে, তিনটি সভা থেকেই শাহের (Amit Shah) বক্তব্যে ছিল আগ্রাসী রাজনৈতিক সুর, যেখানে একদিকে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ, অন্যদিকে ভোটকে ঘিরে কড়া বার্তা, দুই-ই স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
“হাল্লার দল” পাল্টা আক্রমণ মমতার
অন্যদিকে, এদিন বাঁকুড়ার বড়জোড়ায় জনসভা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। নাম না করে এদিন মমতাকে “হীরক রানী” বলে কটাক্ষ করেছিলেন অমিত শাহ (Amit Shah)। তারই পাল্টা জবাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ” ক্ষমতার অপব্যবহার করে সব মেশিনারি (নির্বাচন কমিশন, ইডি, সিবিআই) নিয়ে বাংলা দখল করতে আসছে। যেন মনে হচ্ছে ‘হল্লা বল’, আসছে ‘হল্লার দল’।” এছাড়াও মমতা বিজেপিকে “দিল্লির বর্গী” বলেও কটাক্ষ করেন। সেইসঙ্গে মমতা বলেন, “দিল্লি থেকে এল গাই, সাথে এল মোটাভাই, মোটাভাইয়ের সাথে এল ইডি আর সিবিআই।”
উল্লেখ্য, বিধানসভা ভোটে আর বাকি মাত্র ১২ দিন। আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় পশ্চিমবঙ্গে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। দ্বিতীয় দফায় ভোট হবে ২৯ এপ্রিল। ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ এবং কটাক্ষ, পাল্টা কটাক্ষের পালা। ছাব্বিশের ভোটে বাংলার সিংহাস্বয়ঙে কে বসছেন জানা যাবে ৪ মে।


