Aaj India Desk, কলকাতা: আজ নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। প্রায় ১০ হাজার মানুষের মতামত নিয়ে তৈরি এই সংকল্পপত্রে অনুপ্রবেশে জিরো টলারেন্স, সিন্ডিকেট রাজ নির্মূল, সপ্তম পে কমিশন, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য, মৎস্য, চা ও পাট শিল্পে জোর, আয়ুষ্মান ভারত চালু, উত্তরবঙ্গে AIIMS-IIT-IIM, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, ভাষার স্বীকৃতি, বন্দে মাতরম সংগ্রহশালা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মতো একাধিক প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন অমিত শাহ (Amit Shah)। বিজেপির দাবি, এই ইস্তাহারই বাংলার পরিবর্তনের রোডম্যাপ।
তবে সবকিছুর মাঝেও রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে বেশি চর্চায় উঠে এসেছে মহিলাদের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকার প্রতিশ্রুতি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-এর ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর সরাসরি পাল্টা হিসেবে ‘অন্নপূর্ণা’ প্রকল্প সামনে এনে বিজেপি কার্যত মহিলা ভোটব্যাঙ্কে বড় দখল নেওয়ার কৌশল নিয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিজেপির দাবি, লক্ষ্মীর ভান্ডারের তুলনায় এই অঙ্ক বেশি, ফলে মহিলাদের আর্থিক স্বাধীনতা আরও জোরদার হবে। কিন্তু সমালোচকদের পাল্টা প্রশ্ন-রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতিতে এই বিপুল ব্যয় কীভাবে বহন করবে বিজেপি (BJP)? শুধুই কি ভোটের আগে বড় প্রতিশ্রুতি, নাকি বাস্তবায়নের স্পষ্ট রূপরেখা আছে? ফলে এই নিয়েই জোর রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য একইভাবে যুবকদের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকার ভাতা ঘোষণাও কম বিতর্ক তৈরি করেনি। বিজেপি (BJP) একদিকে ১ কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, অন্যদিকে চাকরি না হওয়া পর্যন্ত ভাতার আশ্বাস – দুই মিলিয়ে যুবসমাজকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা স্পষ্ট। তবে বিরোধীদের দাবি, কর্মসংস্থানের বাস্তব চিত্র না বদলালে এই ভাতা সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে কোনও সমাধান নয়। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে -এটি কি বেকারত্ব সমস্যার স্থায়ী সমাধান, নাকি ভোটের আগে যুব ভোট টানার কৌশল?
ফলে ইস্তাহারের অন্যান্য প্রতিশ্রুতির চেয়েও এই দুই ‘৩ হাজার টাকার’ প্রতিশ্রুতিই এখন বাংলার রাজনৈতিক লড়াইয়ের কেন্দ্রে। একদিকে বিজেপির উন্নয়ন ও আর্থিক সহায়তার বার্তা, অন্যদিকে শাসকদলের আর্থিক বাস্তবতা ও ‘ভোটমুখী প্রতিশ্রুতি’ ইস্যু- দুইয়ের সংঘাতে নির্বাচন যত এগোবে, ততই এই বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট।


