Aaj India Desk, কলকাতা : আর্টিস্ট ফোরামের বৈঠকের উত্তেজনা থেকে টলিউডে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন শ্রীলেখা মিত্র (Sreelekha Mitra)। তাঁর বক্তব্যেই বাধা দিয়ে শিল্পীর কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টায় শিল্পীমহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।
কী ঘটেছিল মঞ্চে ?
রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জির আকস্মিক মৃত্যুর পর একাধিক মিছিল মিটিং হয়। এরপর বৃহস্পতিবার আর্টিস্ট ফোরামের একটি সভায় “বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক” ও ফেডারেশনের সভাপতি নিজের বক্তব্য রাখেন। তাঁর পরেই শ্রীলেখা মিত্র (Sreelekha Mitra) বক্তব্য রাখার সময় হঠাৎ করেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরের বক্তা হিসেবে শ্রীলেখা মিত্র বলতে উঠে ইন্ডাস্ট্রিতে সাইকোলজিস্ট, সাইক্রিয়াটিস্ট ইত্যাদি রাখা নিয়ে সুচিন্তিত মতামত দেওয়ার আগে ফেডারেশনের সভাপতিকে ধন্যবাদ জানান এবং খানিক ব্যঙ্গ করেই বলেন যে উনি শেষমেশ নিজেদের ইন্ডাস্ট্রির কিছু ত্রুটির কথা স্বীকার করলেন! এরপরেই তাঁর বক্তব্যের মাঝপথে বাধা দিয়ে মাইক কেড়ে নেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপস্থিতদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। কেউ কেউ এটিকে শিল্পীদের মতপ্রকাশের অধিকার খর্ব করা বলে মনে করছেন, আবার অন্য পক্ষ পরিস্থিতিকে ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে দেখছেন।
অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রভাব ?
বহু অভিজ্ঞ এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, পাছে শ্রীলেখা মিত্র এর পরে ফেডারেশনের সভাপতি তথা তৃণমূলকে আক্রমণ করতে শুরু করেন, তাই ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁর কাছ থেকে মাইক কেড়ে নেয় তৃণমূলের স্তাবকেরা। সূত্র অনুযায়ী , উপস্থিত মমতাপন্থী এক সুঅভিনেত্রী শ্রীলেখার বক্তব্য শুরু হতেই তাঁর হাত থেকে মাইক কেড়ে নেওয়ার হুকুম দেন। দু-একটি ক্ষীণ কন্ঠের আপত্তিকে অগ্রাহ্য করে সেই হুকুম তৎক্ষণাৎ তামিলও করা হয়।
সরাসরি স্বরূপের বিরুদ্ধে বক্তব্য
তবে স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ হেনে শ্রীলেখা জানান, যাঁকে ত্রাস ভেবে ইন্ডাস্ট্রি চলে তাঁকে নিয়ে বা তৃনমূল নিয়ে রাজনৈতিক চর্চা করতে তিনি সেখানে যাননি। মনস্তত্ত্ববিদ রাখার কথা বলা এবং টেকনিশিয়ানদের সমস্যা বিষয়ে কথা বলতেই তিনি গিয়েছিলেন।
এই ঘটনার পরেই সৌরভ দত্ত এর কড়া সমালোচনা করে বলেন, “অরুণোদয় যে চোরাবালির ওপরে পড়েছিল, তাতে প্রায় মুহূর্তে তার প্রাণ গেছে, কিন্তু টলি ইন্ডাস্ট্রি দাঁড়িয়ে আছে যে চোরাবালির ওপরে, তাতে গোটা ইন্ডাস্ট্রির সমস্ত মানুষই এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে, যেকোনো সময় গোটা ইন্ডাস্ট্রিটাই তলিয়ে যাবে।”
টলিউডে বিতর্কের ঝড়
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে টলিউডে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংগঠনের ভূমিকা এবং অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা সহজে থামার নয়। শ্রীলেখা মিত্রের (Sreelekha Mitra) বক্তব্য চলাকালীন বাধা দেওয়া ও মাইক কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে শিল্পীমহলে মতভেদ তৈরি হয়েছে, যা শিল্পীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে ধরেছে। এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ইন্ডাস্ট্রির সামগ্রিক কার্যকারিতা ও সুনামকে আরও প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।


