কলকাতা: বিজেপি মাছ-মাংস খাওয়ার বিরোধী! ভোটের আবহে তৃণমূলের এই দাবী খন্ডাতে মরিয়া পদ্ম শিবির। ‘মাছে-ভাতে’ বাঙালির কাছে এগুলো যে শুধুমাত্র খাবার নয়, বরং আবেগ, সংস্কৃতি তা একুশের ভোটের পর বুঝে গিয়েছে বিজেপি। তাই বাঙালির মন জয় করতে ছাব্বিশের ভোটে সেই ‘মাছে-ভাতে’ বাঙালি আবেগের পালে হাওয়া দিচ্ছে গেরুয়া শিবির। টিকিট পাওয়া প্রার্থীর মাছ নিয়ে প্রচার, দিলীপ ঘোষের মাছ-বাজারে দর্শন ইত্যাদির পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) মুখেও ‘মৎস আখ্যান’।
বৃহস্পতিবার হলদিয়ার সভা থেকে মাছ উৎপাদনে বাংলা আত্মনির্ভর নয় বলে মন্তব্য করেন নরেন্দ্র মোদী। ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও ভিনরাজ্য থেকে এখনও বাংলাকে মাছ আমদানি করতে হয় বলেন তিনি। শুধু তাই নয়, কেন্দ্র সরকারের আরও অন্যান্য প্রকল্পের মত ‘পিএম মৎস্য সম্পদ’ পাওয়া থেকেও বাংলার মানুষকে বঞ্চিত করছে তৃণমূল সরকার বলে তোপ দাগেন তিনি (Narendra Modi)।
যার পাল্টা হিসেবে ‘চুনোপুঁটি থেকে ইলিশ’ আখ্যান শোনালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মিনাখাঁর জনসভা থেকে তৃণমূল সুপ্রিমোর পাল্টা তোপ, মাছ উৎপাদনে স্বাবলম্বী বাংলা। ডায়মন্ড হারবারে রিসার্চ সেন্টারের দৌলতে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গেই প্রচুর পরিমাণে ইলিশ উৎপাদিত হচ্ছে। যার ফলে ইলিশের জন্য বাংলাদেশের উপর নির্ভরশীলতা অনেক কমিয়ে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়য় (Mamata Banerjee) দাবী করেন, চুনোপুঁটি সংরক্ষণেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। মৎসজীবীদের কার্ড দেওয়া হচ্ছে, বলেও জানান তিনি। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোটের প্রচারে মানুষের আবেগের থেকে বড় অস্ত্র আর হয় না। আর পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ মানুষের দৈনন্দিন প্রধান খাদ্য মাছ-ভাত। সেই পালে হাওয়া দিয়েই জোরদার প্রচার চালাচ্ছে বিজে-মূল।


