Aaj lndia Desk, কলকাতা: দীঘার কাছেই তালসারির নির্জন সমুদ্রসৈকত। ২৯ মার্চ ‘ভোলে বাবা পার করেগা’-র শুটিং চলছিল পুরোদমে। হঠাৎই সেই শুটিং সেটেই থেমে যায় এক তরুণ জীবনের গল্প। আর ফেরা হয়নি টলিউডের উদীয়মান মুখ রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Arunoday Bandopadhyay)। নোনা জলের ঢেউ যেন কেড়ে নেয় তাঁর সমস্ত স্বপ্ন।
অভিনেতার মৃত্যুর পর কেটে গিয়েছে কয়েকদিন, কিন্তু প্রশ্ন এখনও অমীমাংসিত ঠিক কীভাবে শুটিং চলাকালীন এমন মর্মান্তিক পরিণতি? রহস্যের জট এখনও খুলতে পারেনি কেউ। এই মৃত্যুকে ঘিরে ক্ষোভ আর শোক দুটোই ছড়িয়ে পড়েছে টলিপাড়ায়।
নিজেদের ‘ঘরের ছেলে’-র জন্য ন্যায়বিচারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছিলেন ইন্ডাস্ট্রির সহকর্মীরা। উত্তাল হয়েছিল স্টুডিওপাড়া। সেই আবেগ থেকেই ৭ এপ্রিল, মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্ট কালের কর্মবিরতির ডাকও দেওয়া হয়েছিল।তবে শেষমেশ অবস্থান বদল। সকালভর ম্যারাথন বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee ) জানালেন এই মুহূর্তে কোনও কর্মবিরতি হচ্ছে না। কিন্তু ইন্ডাস্ট্রির সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত, ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর সঙ্গে আর কোনও শিল্পী কাজ করবেন না।শোক, ক্ষোভ আর প্রশ্নের মাঝে দাঁড়িয়ে টলিউড রাহুলের মৃত্যুর সত্যিটা সামনে আসার।
টলিউডের শোক আর ক্ষোভ এখনও তীব্র। প্রসেনজিত চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্যে পরিষ্কার হয়ে গেল রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ না জানা পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট সংস্থার সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রির কোনও শিল্পী কাজ করবেন না।তিনি বলেন, “আগামীকাল থেকে সিনেমা-সিরিয়ালের সব কাজ চলবে, কোনও কর্মবিরতি নেই। কিন্তু যেই সংস্থা আজও রাহুলের মৃত্যু নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেনি, তাদের সঙ্গে আমাদের শিল্পীরা আর কোনও সম্পর্ক রাখবে না। আমরা জানতে চাই, শুটিং সেটে রাহুলের সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল। যতদিন না আমরা সত্যটা জানি, ততদিন ওই সংস্থা আমাদের ইন্ডাস্ট্রির অংশ নয়।রাহুল আমাদের জন্য শুধু একজন শিল্পী নয় তিনি পুরো ইন্ডাস্ট্রিকে একত্রিত করলেন। কোনও ফেডারেশন বা আর্টিস্ট ফোরামের নাম জরুরি নয়, আমরা একটাই পরিবার। সেই পরিবার আজ রাহুলকে হারিয়েছে। তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে হবে, এবং অবশ্যই সেই ব্যাখ্যায় প্রিয়াঙ্কার সম্মতি থাকতে হবে। রাহুল সত্যিই আমাদের চোখ খুলে দিয়ে গিয়েছেন।”
প্রসেনজিত আরও যোগ করেছেন, “টেলিভিশনের প্রযোজকদের সঙ্গে যে আলোচনামূলক মিটিংটি হয়েছে, তা মানুষ আগামী ২৫ বছরও স্মরণ রাখবে। এবং এই ইতিহাসের ক্রেডিট কোনওটিরই নয় একজনের, রাহুলের। সিনেমা ও সিরিয়ালের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি কলাকুশলী ও টেকনিশিয়ানের জন্য বিশেষ বিমার ব্যবস্থা করা হবে। কিছু বিষয় বাস্তবায়নে কয়েকদিন সময় লাগবে, তবে আমরা নিশ্চিত করছি, সবার নিরাপত্তা ও স্বার্থ সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।”
প্রসেনজিতের বক্তব্যের সাথে তাল মিলিয়ে রঞ্জিত মল্লিকও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন, ‘ভোলে বাবা পার করেগা’-র শুটিং সেটে ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানা অত্যন্ত জরুরি। এই ঘটনায় একজন শিল্পী জীবন হারালেন, এবং সেই সত্য উদঘাটন করাটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। ইন্ডাস্ট্রিতে কারও সঙ্গে কোনও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব নেই কেবল রাহুলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে চাওয়া ছাড়া। বর্ষীয়াণ অভিনেতা আরও যোগ করেছেন, এই লড়াই শুধু ন্যায়ের জন্য, এবং সেটাই ইন্ডাস্ট্রির সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব।


