Aaj India Desk, কলকাতা: শেষ পর্যন্ত সেই তালিকাটা সামনে এল -এসআইআর (SIR)-এর নিষ্পত্তি হওয়া নামের প্রায় সম্পূর্ণ হিসেব। সোমবার গভীর রাতে প্রকাশ্যে আসে এই তথ্য, আর তা সামনে আসতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে চর্চা, উদ্বেগ আর প্রশ্নের ঢেউ। কারণ সংখ্যাটা সত্যিই বড় -প্রায় ৫০ লক্ষ বিচারাধীন নামের মধ্যে এক ধাক্কায় বাদ পড়েছে প্রায় ২৭ লক্ষ! এত মানুষের নাম একসাথে তালিকা থেকে বাদ যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই অনেকের মনে প্রশ্ন উঠছে – ‘এতগুলো নাম গেল কোথায়? আর কেন?’
শুরু থেকেই শোনা যাচ্ছিল, মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুর -এই তিন জেলায় সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়তে পারে। এবার সেই আশঙ্কাই সত্যি হতে দেখা গেল। হিসেব বলছে, সবচেয়ে বেশি ধাক্কা লেগেছে মুর্শিদাবাদে। সেখানে বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা ছিল ১১ লক্ষ ১ হাজার। ২০২৫ সালের ভোটার তালিকায় মোট ভোটার ছিলেন ৫৭ লক্ষ ৬৪ হাজার ৮৫ জন। খসড়া তালিকায় নাম উঠেছে ৫৪ লক্ষ ৮৫ হাজার ২৪৮ জনের। আর বিচারাধীন তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার জনের নাম। তাই অনেককেই বলতে শোনা যাচ্ছে, “সব নথি জমা দিয়েও নাম থাকল না” -তাহলে সমস্যা কোথায় হচ্ছে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
এরপরেই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা। সীমান্ত লাগোয়া এই জেলায় মতুয়া ভোটারের সংখ্যাও অনেক। এখান থেকে ৩ লক্ষ ২৫ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। বিশেষ করে বসিরহাট ও বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে বাদ
তৃতীয় স্থানে মালদহ। কয়েকদিন আগেই নাম বাদ পড়ার জন্য সাত বিচারকে আটকে রাখার খবর সামনে এসেছিল, এবার সেই জেলার হিসেবও স্পষ্ট। এখানে ২ লক্ষ ৩৯ হাজার নাম তালিকা থেকে বাদ গেছে। তাই সাধারন মানুষের একাংশের বক্তব্য, “এভাবে যদি নাম কাটা হয়, তাহলে আমাদের ভোটাধিকার কতটা নিরাপদ?”
দক্ষিণ ২৪ পরগনার চিত্রটা আরও চিন্তার। এখানে বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা ছিল ৫ লক্ষ ২২ হাজার ৪২ জন। তার মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ৫ লক্ষ ১৮ হাজার ৬৬৮ জনের। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছেন ২ লক্ষ ৯৫ হাজার ৭৩৯ জন, আর বাদ পড়েছেন ২ লক্ষ ২২ হাজার ৯২৯ জন। মানে প্রায় অর্ধেক নামই নেই! অনেকেই বলছেন, “সব নিয়ম মেনে করেও যদি নাম না থাকে, তাহলে আমরা যাব কোথায়?”
নদিয়াতেও ২ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়েছে। পূর্ব বর্ধমানেও প্রায় ২ লক্ষ নাম তালিকা থেকে কাটা গেছে। হাওড়া ও হুগলি -এই দুই জেলাতেই এক লক্ষের বেশি ভোটারের নাম নেই। কোচবিহারে প্রায় ১ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। আর উত্তর দিনাজপুরে বাদ পড়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৭৬ হাজার নাম। অর্থাৎ, সমস্যাটা এক-দুটি জেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় ,প্রায় গোটা রাজ্য জুড়েই এর প্রভাব পড়েছে।
সব মিলিয়ে, যারা সাধারণ মানুষ, তাদের মনে এখন একটাই বড় প্রশ্ন- “আমাদের নাম যদি ভোটার তালিকায়ই না থাকে, তাহলে আমরা ভোট দেব কীভাবে?” এখন দেখার, প্রশাসন এই পরিস্থিতিতে কী পদক্ষেপ নেয়, আর যাদের নাম বাদ পড়েছে, তারা আবার তাদের সেই অধিকার ফিরে পায় কিনা।


