Aaj India Desk, কলকাতা: ২০১৬ থেকে ২০১৯ সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)-এর নির্দেশ মেনে চার বছরের বকেয়া ডিএ (DA) একসঙ্গে মিটিয়েছে রাজ্য সরকার। তবে এখনও সেই অর্থ হাতে পাননি রাজ্য সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক -শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত ও পুরসভার বহু কর্মী। এই প্রেক্ষিতে বুধবার অর্থ দপ্তরের বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে খুব শিগগিরই তাঁদের বকেয়া ডিএ(DA) পরিশোধ করা হবে।শুধু কর্মীরাই নন, এ বার স্বস্তির খবর পেনশনভোগীদের জন্যও। ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে যাঁরা অবসর নিয়েছেন, তাঁরা আগামী ১৮০ দিনের মধ্যেই বকেয়া ডিএ (DA) ও এরিয়ার পেয়ে যাবেন। বুধবারের বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার এই মর্মে সরকারি বিজ্ঞপ্তিও জারি হয়েছে।
মঙ্গলবার, ৩১ মার্চের মধ্যেই ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের চার বছরের বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দিয়েছে নবান্ন (Nabanna)। এর পরেই নজর ঘুরেছে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও পেনশনভোগীদের দিকে। তাঁদের ডিএ ও ডিআর (মহার্ঘ ত্রাণ) সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বুধবার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছে অর্থ দপ্তর।নবান্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, কোন দপ্তরে কতজন কর্মী ডিএ ও ডিআর পাওয়ার যোগ্য এবং তাঁদের প্রতি মাসে ঠিক কত পরিমাণ ভাতা দেওয়া হয়েছে এই সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য দ্রুত সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সব দপ্তরকে। অর্থাৎ, বকেয়া মেটানোর আগে হিসেব-নিকেশ গুছিয়ে নিতে তৎপর প্রশাসন।
এই বৈঠকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন উচ্চশিক্ষা ও স্কুল শিক্ষা, জনশিক্ষা সম্প্রসারণ ও গ্রন্থাগার পরিষেবা, পুর ও নগরোন্নয়ন, সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা, পরিবহণ এবং পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা একসঙ্গে বসে বিষয়টি খতিয়ে দেখেন।অর্থ দপ্তরের সচিবের নেতৃত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির প্রধান আধিকারিক, হিসাব শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার এবং আর্থিক উপদেষ্টারাও উপস্থিত ছিলেন। অর্থ দপ্তর সূত্রে খবর, প্রয়োজনীয় তথ্য মিললেই দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ শুরু হবে। সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে, এপ্রিলের শেষ দিকেই সংশ্লিষ্ট কর্মীদের হাতে বকেয়া ডিএ পৌঁছে যেতে পারে।
বৃহস্পতিবার পেনশনভোগীদের ডিএ দেওয়া নিয়ে সুনির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে। কী ভাবে ধাপে ধাপে এই কাজ হবে, তাও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। ফ্যামিলি পেনশন অর্থাৎ গৃহকর্তার মৃত্যুর পরে যা তাঁর পরিবার পেয়ে থাকে, তা পুরসভার ট্রেজ়ারি বিভাগ বা ব্যাঙ্ক দায়িত্ব নিয়ে দিয়ে দেবে। একই পদ্ধতিতে এরিয়ারের টাকাও দেওয়া হবে। আপাতত ২০০৮ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত বকেয়া মেটানো হবে।
অর্থ দপ্তর সূত্রে ইঙ্গিত, প্রয়োজনীয় তথ্য হাতে এলেই আর দেরি হবে না দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে বকেয়া মেটানোর পথে এগোবে প্রশাসন। সব কিছু ঠিকঠাক চললে,এপ্রিলের শেষের দিকেই বহু প্রতীক্ষিত ডিএ হাতে পেতে পারেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মীরা।


