Aaj India Desk, উত্তর ২৪ পরগনা: রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা ভোট (West Bengal Assembly Election 2026)-এর আগে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর চাঞ্চল্য। শাসকদল তৃণমূল (TMC)-এর অন্দরে ভাঙনের অভিযোগ উঠছে, আর সেই আবহেই উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ (Bangaon)-এ দলবদলের ঘটনা নতুন মাত্রা যোগ করল রাজনীতিতে।
বুধবার বনগাঁ মহকুমা আদালতের একাধিক আইনজীবী(সংখ্যা নিয়ে যদিও বিতর্ক রয়েছে) -তৃণমূল ছেড়ে যোগ দেন বিজেপি (BJP)-তে। বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিকাশ ঘোষ এবং বিজেপি প্রার্থী অশোক কীর্তনীয়ার হাত ধরে এই যোগদান পর্ব সম্পন্ন হয়। বিজেপির দাবি, মোট ১০ জন আইনজীবী এই দলে নাম লিখিয়েছেন।
দলত্যাগী বরিষ্ঠ আইনজীবী সমীর ঘোষ অভিযোগ করেন, ২০১২ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত সরকারি পিপি হিসেবে কাজ করার সময় তিনি তৃণমূলের দুর্নীতির চিত্র কাছ থেকে দেখেছেন। তাঁর বক্তব্য, “দলে কোনও শৃঙ্খলা নেই, সমাজবিরোধী কার্যকলাপ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে দল ছাড়া ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না।”
এই ইস্যুতে বিজেপির প্রার্থী অশোক কীর্তনীয়া আরও আক্রমণাত্মক সুরে বলেন, তৃণমূলের বর্তমান প্রার্থীর চরিত্র ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সাধারণ মানুষ বিরক্ত। তাঁর দাবি, শুধু আইনজীবী নয় -ব্যবসায়ী, ভ্যানচালক, টোটোচালক -সব স্তরের মানুষ তৃণমূল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এমনকি তিনি এও দাবি করেন, তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাস বড় ব্যবধানে হারবেন। বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি বিকাশ ঘোষের কথায়, “দল ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়ছে। যাঁরা সাহস করছেন, তাঁরা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন।”
তবে পাল্টা বক্তব্য দিয়েছে তৃণমূলও। বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি প্রসেনজিৎ ঘোষের দাবি, ১০ জন নয়, মাত্র একজন আইনজীবী দলবদল করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ওই ব্যক্তি ‘দলবদলু’ এবং বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “গুরুত্বহীন একজন মানুষ বিজেপিতে গিয়ে নিজেকে বড় করে দেখানোর চেষ্টা করছেন, এই নিয়ে বিশেষ কিছু বলার নেই।”
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই ঘটনাই প্রথম নয়। এর আগেও হুগলির বলাগড়ে তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তির ছবি সামনে এসেছে। জিরাট অঞ্চলের সভাপতি পদ থেকে দেবাশীষ সরকার ইস্তফা দেন এবং সেই পদত্যাগপত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়।


