28.1 C
Kolkata
Wednesday, April 1, 2026
spot_img

ভোটের আগে তিন ধাপে ‘গৃহপ্রবেশ’ : রাজ্যজুড়ে ‘ডোর-টু-ডোর’ কর্মসূচিতে তৃণমূল

Aaj India Desk, কলকাতা : ভোটের আগে জনসংযোগ বাড়াতে বড়সড় কর্মসূচির ঘোষণা করল তৃনমূল সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। ভবানীপুরের বৈঠকে রাজ্যজুড়ে প্রতিটি ভোটারের বাড়িতে অন্তত তিনবার করে পৌঁছানোর নির্দেশ দিলেন তিনি।

তিন ধাপে সংগঠিত পরিকল্পনা

দল সূত্রে জানা গিয়েছে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তিন ধাপের একটি সংগঠিত কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বিধানসভায় প্রায় ১০০ জনের একটি করে দল গঠন করা হবে। সেই দল ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ হয়ে গোটা এলাকার প্রতিটি বাড়িতে পৌঁছবে। এই কর্মসূচিতে প্রথমে যাবেন ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা। এরপর যুব সংগঠন এবং সবশেষে মহিলা সংগঠনের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি যাবেন। প্রতিটি দলে বিধানসভা পর্যবেক্ষকরাও থাকবেন।

এই কর্মসূচি নিয়ে অভিষেক ব্যানার্জির (Abhishek Banerjee) স্পষ্টভাবে বলেন, “মানুষের কাছে পৌঁছনোই আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। একবার নয়, তিনবার করে প্রতিটি বাড়িতে যেতে হবে। জানতে হবে, সরকার যে প্রকল্পগুলো করেছে, তার সুবিধা সবাই পাচ্ছেন কি না। কেউ সমস্যায় থাকলে তা শুনতে হবে এবং সমাধানের পথ দেখাতে হবে। মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগই আমাদের শক্তি, সেটাই আরও মজবুত করতে হবে।”

প্রকল্পের সুবিধা যাচাইয়ে জোর

এই কর্মসূচির মাধ্যমে দলীয় কর্মীরা ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে খোঁজ নেবেন যে রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্প যেমন Kanyashree, Lakshmi Bhandar, Yuvasathi, Karmasree এর সুবিধা সাধারণ মানুষ সঠিকভাবে পাচ্ছেন কি না। এছাড়া, বাড়ির কোনও সমস্যা বা অভিযোগ থাকলে তা নথিভুক্ত করা হবে। ছোট সমস্যার ক্ষেত্রে স্থানীয় স্তরেই সমাধানের চেষ্টা করা হবে, আর গুরুতর বিষয়গুলি রাজ্য স্তরে পাঠানো হবে বলে জানা গিয়েছে।

দলীয় সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, গ্রামীণ এলাকায় ব্লকভিত্তিক এবং শহরে ওয়ার্ডভিত্তিক এই কর্মসূচি চালানো হবে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলায় প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে এবং খুব শীঘ্রই কলকাতাতেও এই জনসংযোগ অভিযান শুরু হবে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) ও দলের লক্ষ্য, প্রতিটি বাড়ি এবং প্রতিটি ভোটারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা এবং নির্বাচনের আগে জনমত সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া।

ভোটের সমীকরণে কতটা প্রভাব?

ভোটের নিরিখে এই ধরনের ঘরে ঘরে জনসংযোগ কর্মসূচি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সরাসরি ভোটারের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ালে একদিকে যেমন সরকারের প্রকল্পের বাস্তব প্রভাব বোঝা যাবে, তেমনই অসন্তোষ বা সমস্যা আগেভাগে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। এর ফলে সংগঠনের ভিত্তি মজবুত হওয়ার পাশাপাশি ভোটের আগে জনমত প্রভাবিত করার ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত এই কর্মসূচির সাফল্য নির্ভর করবে মাঠস্তরে তার বাস্তবায়ন ও ভোটারদের প্রতিক্রিয়ার উপরই।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন