কলকাতা: বিধানসভা ভোটের বাকি আর মোটে ২২ দিন! ২৩ এপ্রিল গণতন্ত্রের উৎসবে মাতবেন বঙ্গবাসী। অন্তিম লগ্নেও এসআইআর নিয়ে অভিযোগ, অসন্তুষ্টি অব্যাহত রেখেছে শাসকদল। সম্প্রতি সেই অসন্তোষে নতুন অনুঘটক হয়েছে ফর্ম-৬ (SIR Form-6)। চলতি সপ্তাহে সিইও দফতরের সামনে দফায় দফায় বিক্ষোভ অশান্তির পর বুধবার সকাল থেকে সিইও দফতরের সামনে ধর্নায় বসেছে তৃণমূল।
এসআইআর নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) মঙ্গলবার ফের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দেন। যেখানে তিনি অভিযোগ করেন, বিহার, হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রের মতো একই কৌশল এ রাজ্যেও প্রয়োগ করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট অভিযোগ, ‘বহিরাগত’দের ভোটার তালিকায় ঢোকানোর এই প্রচেষ্টার পিছনে বিজেপির প্রত্যক্ষ মদত রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা নন এমন বহু ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে, বলে জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিতে জানান তিনি।
X link: https://x.com/ANI/status/2039180119881986124
নামোল্লেখ না করলেও জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দেওয়া নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তির্যক মন্তিব্যে বিঁধলেন খড়গপুরে বিজেপির টিকিট প্রাপ্ত প্রার্থী তথা বর্ষীয়ান দাপুটে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। এদিন সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি বলেন, “আমি মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে চাই, ‘প্রেমপত্র’ লেখা বন্ধ করুন! এখন নির্বাচনের সময়, তাই নিজের দলের দিকে নজর দিন। আপনি বাংলাকে সামলাতে পারেননি, তবে এখন অন্তত নিজের দলটাকে সামলান…তৃণমূল কংগ্রেসের পরিণতি আরজেডি (RJD) এবং এসপি-র (SP) চেয়েও খারাপ হবে।” তিনি আরও বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘ দিন ধরেই হিন্দু ও মুসলমানদের উসকে দেওয়ার চেষ্টা করে আসছেন… এতদিন তিনি মুসলিম সম্প্রদায়কে ভয় দেখাচ্ছিলেন, আর এখন তিনি হিন্দুদের ভয় দেখাচ্ছেন…”
প্রসঙ্গত, এক ব্যক্তি ব্যাগভর্তি ফর্ম ৬ নিয়ে (SIR Form-6) নির্বাচন কমিশনের দফতরে প্রবেশ করেছেন—এমন অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল। বিপুল সংখ্যক ফর্ম ৬ সিইও অফিসে জমা দেওয়া নিয়ে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়। গতকাল সিইও দফতরের সামনে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা বিক্ষোভ দেখান। অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকেও অভিযোগ জানাতে সেখানে উপস্থিত হন শুভেন্দু অধিকারী ও শমীক ভট্টাচার্য। দুই পক্ষের বচসায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ, তারাই শেষে পরিস্থিতি সামাল দেয়।


