Aaj India Desk, মুর্শিদাবাদ : রঘুনাথগঞ্জ ও জঙ্গিপুর এলাকায় রামনবমী প্রসেসনের সময় সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তপ্ত রাজ্য। এর মধ্যেই এই ঘটনায় যুক্ত RSS নেতা সহ আরো ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করলো রাজ্য পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন আরএসএস নেতা কিংশুক সরকার এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠন নেতা বাবাই চক্রবর্তী। সংঘর্ষ চলাকালে সরকারকে ওয়াকিটকি নিয়ে উপস্থিত থাকারও অভিযোগ উঠেছে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার বিকেলে ফালতলা মোড়ের কাছে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে, যখন প্রসেসনটি ম্যাককেঞ্জি পার্কের দিকে যাচ্ছিল। স্থানীয়রা উচ্চস্বরে ডি.জি.জে. সঙ্গীতের কারণে প্রতিবাদ করলে দুই গ্রুপের মধ্যে ধস্তাধস্তি, পাথর ছোড়াছুড়ি, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর শুরু হয়। দ্রুত এলাকা জুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার কার্যক্রম ঘটনার সময় এবং রাত্রীকালীন অভিযান দু’ভাবেই চালানো হয়েছে। মোট ছয়টি মামলা রুজু করা হয়েছে, যার মধ্যে চারটি স্ব-প্রণোদিত। অভিযোগে রয়েছে দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, লুটপাট ও সরকারি সম্পত্তি ক্ষতি। এছাড়া, সিসিটিভি ফুটেজ ও সামাজিক মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে আরও অভিযুক্ত শনাক্ত করা হচ্ছে।
সংঘর্ষে জঙ্গিপুর উপ-জেলা হাসপাতালে অন্তত ৪৭ জন আহত হয়। শনিবার দু’জনকে হাসপাতাল থেকে ছাড়া দেওয়া হয়েছে, বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও ক্রমশ তীব্র হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বলেন, “আমরাও রামনবমী উদযাপন করি, প্রসেসন করি। কিন্তু কখনো হিংসা বা দাঙ্গা করি না। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য আমাকে দোষ দেওয়া ঠিক নয়।” অন্যদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, “নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে এবং রাজ্যে কর্মকর্তাদের পুনর্গঠনের কারণে এইবার হিংসা কম হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস প্রশাসনের কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করছে।”
পশ্চিমবঙ্গের ডিজিপি এই ঘটনার রিপোর্ট ইতিমধ্যেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনার মনোজ কুমার আগরওয়ালকে জমা দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনও এই বিষয়ে রিপোর্ট চেয়েছে।
RSS মতো সংগঠন যারা প্রায়শই রাম, সংস্কৃতি ও পূজা-অর্চনার প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলে, তারাই এই সংঘর্ষের পিছনে হওয়ায় উঠছে প্রশ্ন। কেন এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলো, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে সাধারন জনগনের মনে। কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, ভোটের আগে হয়তো এই ধরনের ঘটনা ভোট প্রভাবিত করতে, মনোযোগ সরাতে বা ঘটনাকে ধর্ম ভিত্তিক রং দিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। যদিও এই ঘটনার পুলিশ তদন্ত করছে, তবে এই ধরনের সংঘর্ষ রাজনীতির প্রেক্ষাপটে ফের নতুন সমালোচনার সুযোগ তৈরি করছে।


