Aaj India Desk, কলকাতা : আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও অবাধ ভোট নিশ্চিত করতে নজরদারি জোরদার করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)।ভোটারদের পথে বাধা সৃষ্টি হলেও তা ‘বুথ দখল’ হিসেবে গণ্য করা হবে বলেও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
বুথে নতুন সিসিটিভি ব্যবস্থা
শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানান, এবার বুথের ভিতর ও বাইরে, উভয় জায়গাতেই সিসিটিভি নজরদারি থাকবে এবং ১০০ শতাংশ বুথকে ওয়েবকাস্টিংয়ের আওতায় আনা হবে। অনেক ক্ষেত্রে ‘৩৬০ ডিগ্রি’ নজরদারির জন্য দুটি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। লক্ষ্য, প্রতিটি বুথের সম্পূর্ণ কার্যকলাপ লাইভ পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা।
তিনস্তরের নজরদারি কাঠামো
ভোট প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে তিনটি স্তরে মনিটরিং করা হবে। প্রথম স্তরে রিটার্নিং অফিসারের কন্ট্রোল রুম, দ্বিতীয় স্তরে জেলা নির্বাচন আধিকারিক (DEO)-র অফিস, ও তৃতীয় স্তরে CEO-র মূল কন্ট্রোল রুমে মনিটরিং হবে। সাথে CEO-র কন্ট্রোল রুমে বসানো হয়েছে ৬৬০টি টিভি স্ক্রিন, যেখানে একসঙ্গে ১২টি বুথের লাইভ ফিড দেখা যাবে। নজরদারির দায়িত্বে থাকবেন ২,৩৫২ জন মাইক্রো অবজারভার ও ৯৬৫ জন সহকারী অবজারভার। ফ্লাইং স্কোয়াড ও কুইক রেসপন্স টিম (QRT)-এর গাড়িতেও থাকবে ক্যামেরা ও জিপিএস ট্র্যাকিং। ফলে মাঠপর্যায়ের তৎপরতাও রিয়েল-টাইমে নজরে রাখা সম্ভব হবে।
ইভিএম ও গণনা কেন্দ্রের নিরাপত্তা
নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) মতে, ইতিমধ্যেই ৩ লক্ষ ইভিএম ইউনিটের ‘ফার্স্ট লেভেল চেকিং’ সম্পন্ন হয়েছে। ইভিএম ও ভিভিপ্যাট বহনকারী যানবাহনেও থাকবে জিপিএস ট্র্যাকিং। শুধু ভোটগ্রহণ নয়, গণনা কেন্দ্রগুলির লাইভ ছবিও CEO-র কন্ট্রোল রুমে পৌঁছবে।
মনোজ কুমার স্পষ্ট করে দেন, বুথের ভিতরে গোলমাল না থাকলেও যদি বুথের বাইরে ভোটারদের বাধা দেওয়া হয় বা ভোটাররা কেন্দ্রে পৌঁছতে না পারেন, তা-ও ‘বুথ দখল’ হিসেবে গণ্য হবে। পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় ২ লক্ষ সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি করেছে নির্বাচন কমিশন। সব মিলিয়ে, প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ‘১০০ শতাংশ স্বচ্ছ’ করতে কোনও ফাঁক না রাখার বার্তা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানো হলেও স্বচ্ছ নির্বাচন নিয়ে সংশয় পুরোপুরি কাটেনি। প্রতি নির্বাচনের আগেই ইভিএমের নিরাপত্তা, সম্ভাব্য হ্যাকিং বা কারচুপির অভিযোগ সামনে আসে, যদিও নির্বাচন কমিশন (Election Commission) বারবার দাবি করেছে যে ইভিএম সম্পূর্ণ সুরক্ষিত এবং স্বতন্ত্রভাবে কাজ করে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বহুমাত্রিক নজরদারি, ভিভিপ্যাট যাচাই এবং প্রশাসনিক কড়াকড়ি স্বচ্ছতা বাড়াতে সাহায্য করলেও শুধু প্রযুক্তি নয়, মাঠপর্যায়ে তার নিরপেক্ষ প্রয়োগই আসল চ্যালেঞ্জ। ফলে নতুন ব্যবস্থাগুলি কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে বাস্তব প্রয়োগ ও নজরদারির নিরপেক্ষতার উপর।


