Aaj India,পশ্চিম মেদিনীপুর: মুসলিম ভোট তাঁরা পান না — এমন অভিযোগ বহুবার তাঁর মুখে শোনা গিয়েছে। তবুও ‘রাষ্ট্রবাদী মুসলিমদের’ কাছে বিজেপিকে(BJP) ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি নিজেই। আর সেই শুভেন্দু অধিকারী(Shubhendu Adhikari)-র নেতৃত্বেই রামনবমীর মিছিলে এদিন ধরা পড়ল সম্প্রীতির এক ভিন্ন ছবি। নন্দীগ্রামে, শুক্রবারের মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের জল-ফল খাওয়ালেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। শুভেন্দুকে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা জানিয়ে জল-ফল পরিবেশন করলেন তাঁরা। এই দৃশ্যকেই হাতিয়ার করে শাসকদলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা।
রামনবমী উপলক্ষে নন্দীগ্রামে আয়োজিত হয়েছিল একটি মিছিল।নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ডে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের হাতে তুলে দেন জল ও ফল। মিছিলের সামনেই থাকা শুভেন্দুও সেই আপ্যায়ন গ্রহণ করেন। শুভেন্দুদের জল-ফল খাইয়ে আব্বাসরা জানান, “নন্দীগ্রামে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের বার্তা দিতেই রামনবমীর দিনে এই উদ্যোগ। আমরা যেমন নিজের ধর্মকে ভালোবাসি, তেমনই অন্য ধর্মের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল। নন্দীগ্রাম বারবার প্রমাণ করেছে —মানবতাই আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়।”
উল্লেখ্য, নন্দীগ্রামের বিদায়ী বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীই এবারও এই কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী। এদিন সংখ্যালঘুদের এই উদ্যোগের পর শাসকদলকে নিশানা করে তিনি বলেন, “আজ শিক্ষিত মুসলিম যুবকরাই জল-শসা-বাতাসা দিচ্ছে, আর বলছে — চাকরি চাই, তাই বিজেপিকে দরকার।”
রামনবমীর মিছিল প্রসঙ্গে শুভেন্দু আরও বলেন, এই শোভাযাত্রায় সব ধর্ম ও পেশার মানুষের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। স্নাতক, অনার্স ও পিটিটিআই পাশ বেকার যুবকদের উপস্থিতির কথাও তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, “কর্মসংস্থানের আশায় যুবসমাজ এখন মোদী সরকারের উপর ভরসা রাখছে।” পাশাপাশি অমিত শাহ-র(Amit Shah) চাকরিতে বয়সের ছাড় সংক্রান্ত ঘোষণায় যুবকদের সন্তুষ্টির কথাও জানান তিনি।
তৃণমূল (TMC) কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করে শুভেন্দুর অভিযোগ, “রাজ্যে পুলিশ ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভয় দেখানোর রাজনীতি চালাচ্ছে তৃণমূল সরকার।” তাঁর দাবি, নন্দীগ্রামে এখন তৃণমূল মূল লড়াইয়ে নেই — বরং দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্থানের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এমনকি তাঁর মতে, তৃণমূলের চেয়েও বেশি ভোট পেতে পারে আইএসএফ(ISF)।


