Aaj India Desk, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে একই দিনে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) দ্বারস্থ হলো তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মডেল কোড অব কন্ডাক্ট লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে বিজেপি, পাল্টা নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছে তৃণমূল। ফলে নির্বাচনের মুখে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।
বিজেপির অভিযোগ, মডেল কোড অব কন্ডাক্ট কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ভবানীপুর বিধানসভা এলাকায় এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ছবি ও কাটআউট প্রদর্শিত হচ্ছে। এই বিষয়টি নির্বাচন বিধি ভঙ্গের সামিল বলে দাবি করে তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী ‘লাভজনক পদ’ থেকে ইস্তফা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে জানা যায়, তিনি একাধিক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তবে পরে সেই ইস্তফা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে বলে আপডেট আসে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই কমিশনে (Election Commission) অভিযোগ জমা পড়ে।
অন্যদিকে, নন্দীগ্রামে এক বৈঠককে কেন্দ্র করে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের দাবি, ওই সভায় তাকে লক্ষ্য করে বিজেপি কর্মীরা ‘চোর’ বলে কটূক্তি করেন এবং আক্রমণাত্মক আচরণ করেন। এই ঘটনাকে অসম্মানজনক বলে উল্লেখ করে তৃণমূল নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে।
দুই শিবিরের তরফে একই দিনে নির্বাচন কমিশনে (Election Commission) অভিযোগ দায়ের হওয়ায় ভোটের আগেই রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্পষ্টতই আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের এই ধারাবাহিকতা নির্বাচনী প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যেখানে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও নির্বাচনী বিধি মানা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ শুধু প্রচারের কৌশল নয়, বরং ভোটারদের মনোভাবেও প্রভাব ফেলতে পারে। এখন সব পক্ষের নজর নির্বাচন কমিশনের দিকে। অভিযোগগুলির ভিত্তিতে তারা কী তদন্ত শুরু করে, আদৌ কোনো নির্দেশ বা ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, এবং তা নির্বাচনী পরিবেশে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার।


